বলেই দিয়েছি তো, তুই বাপের বাড়ি যাবি না! কুড়াল দিয়ে স্ত্রীকে খুন করে সারারাত রক্তমাখা লাশের পাশেই ঘুমিয়ে রইল স্বামী – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ঝাড়খণ্ডের বোকারো জেলার পিন্দ্রাজোরা থানা এলাকায় এক নারকীয় হত্যাকাণ্ডের সাক্ষী থাকল গোটা গ্রাম। সামান্য পারিবারিক বিবাদ যে এমন ভয়াবহ রূপ নিতে পারে, তা ভেবেই শিউরে উঠছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযুক্ত স্বামী বিকাশ রজওয়ার তার স্ত্রী সোনু দেবীকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করার পর বিন্দুমাত্র অনুতপ্ত না হয়ে মৃতদেহের পাশেই গভীর ঘুমে মগ্ন ছিল। পুলিশ ঘাতক স্বামীকে গ্রেপ্তার করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
ঘটনার মূলে বাপের বাড়ি যাওয়ার জেদ
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিবাদের সূত্রপাত হয় স্ত্রীর বাপের বাড়ি যাওয়াকে কেন্দ্র করে। সোনু দেবী তার বাপের বাড়ি যেতে চাইলেও স্বামী বিকাশ তাতে কঠোর বাধা দেয়। কথা কাটাকাটি চরম পর্যায়ে পৌঁছালে রাগের মাথায় ঘরে থাকা ধারালো কুড়াল দিয়ে স্ত্রীর গলায় কোপ বসায় বিকাশ। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় সোনু দেবীর। এরপর অভিযুক্ত ব্যক্তি মদ্যপান করে রক্তে ভেজা লাশের পাশেই রাতভর নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে থাকে।
ভয়াবহ পরিণাম ও পুলিশের পদক্ষেপ
রবিবার সকালে দীর্ঘক্ষণ ঘরের দরজা না খোলায় পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। দরজা খোলার পর তারা দেখতে পান বিছানায় স্ত্রীর রক্তাক্ত নিথর দেহ পড়ে আছে এবং পাশে স্বামী অঘোরে ঘুমাচ্ছে। খবর পেয়ে পিন্দ্রাজোরা থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে রক্তমাখা কুড়ালটি উদ্ধার করে এবং অভিযুক্তকে আটক করে। ময়নাতদন্তের জন্য দেহটি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, রাগের মাথায় হিতাহিত জ্ঞান হারিয়েই এই নৃশংস কাণ্ড ঘটিয়েছে ওই ব্যক্তি।
এক ঝলকে
- ঝাড়খণ্ডের বোকারো জেলায় বাপের বাড়ি যাওয়া নিয়ে বিবাদের জেরে স্ত্রীকে খুন।
- কুড়াল দিয়ে গলায় কোপ মেরে স্ত্রীকে হত্যার পর লাশের পাশেই রাত কাটালো স্বামী।
- সকালে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাটি জানতে পেরে পুলিশে খবর দেয়।
- অভিযুক্ত স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়েছে।
