বস্তির শহর কলকাতা! তিলোত্তমা কি সত্যিই ঝোপড়পট্টির শহর? অমিত শাহের বিতর্কিত মন্তব্যে উত্তাল রাজনৈতিক মহল – এবেলা

বস্তির শহর কলকাতা! তিলোত্তমা কি সত্যিই ঝোপড়পট্টির শহর? অমিত শাহের বিতর্কিত মন্তব্যে উত্তাল রাজনৈতিক মহল – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

সম্প্রতি এক নির্বাচনী সভায় কলকাতার নগরায়ণ নিয়ে প্রশ্ন তুলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ শহরটিকে ‘ঝোপড়পট্টির শহর’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর দাবি, গত কয়েক দশকের শাসনকালে কলকাতার গৌরব হারিয়েছে এবং এটি বস্তিবহুল এলাকায় পরিণত হয়েছে। এই মন্তব্যের পরপরই তৃণমূল কংগ্রেস ও অন্যান্য বিরোধী দলগুলি কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। বিজেপির বিরুদ্ধে তথ্য বিকৃতির অভিযোগ তুলে তাঁরা দাবি করেছেন যে, উন্নয়নকে খাটো করে দেখাতেই এমন নেতিবাচক তকমা ব্যবহার করা হচ্ছে।

পরিসংখ্যান বনাম রাজনৈতিক বয়ান

ভারতের সর্বশেষ সরকারি জনগণনা এবং বিভিন্ন সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, কলকাতার মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩৩ শতাংশ মানুষ বস্তি এলাকায় বসবাস করেন। শহরে নথিভুক্ত বস্তির সংখ্যা দুই হাজারের কাছাকাছি হলেও অলিখিত বস্তির সংখ্যা সাড়ে তিন হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবে জাতীয় প্রেক্ষাপটে বিচার করলে দেখা যায়, মুম্বইয়ের মতো বাণিজ্যনগরীর প্রায় ৪২ শতাংশ মানুষ বস্তিবাসী। শতাংশের বিচারে মুম্বইয়ের তুলনায় কলকাতার বস্তিবাসীর হার কম হলেও দিল্লির তুলনায় এটি উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। ফলে কলকাতাকে এককভাবে ‘বস্তির শহর’ বলা কতটা সমীচীন, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে দ্বিমত রয়েছে।

নগরায়ণের সংকট ও ভবিষ্যৎ প্রভাব

দ্রুত শিল্পায়ন এবং কর্মসংস্থানের খোঁজে গ্রাম থেকে শহরমুখী হওয়ার প্রবণতাই মূলত ভারতের বড় শহরগুলিতে বস্তি বিস্তারের প্রধান কারণ। কলকাতা ভৌগোলিকভাবে সীমাবদ্ধ হওয়ায় এখানে জনঘনত্ব অত্যন্ত বেশি, যা বসতি সমস্যার অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে এই ধরণের মন্তব্য একদিকে যেমন ভোটারদের মেরুকরণ করতে পারে, অন্যদিকে শহরের পরিকাঠামোগত উন্নয়ন ও বস্তি উচ্ছেদের বদলে বস্তি উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তাকে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। এই বিতর্কের প্রভাব আগামী দিনে কলকাতার নগর পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কৌশলের ওপর পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এক ঝলকে

  • অমিত শাহ কলকাতাকে ‘ঝোপড়পট্টির শহর’ বলায় কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে নতুন রাজনৈতিক সংঘাত তৈরি হয়েছে।
  • পরিসংখ্যান অনুযায়ী কলকাতার জনসংখ্যার ৩৩ শতাংশ মানুষ বস্তিতে থাকলেও মুম্বইয়ের (৪২ শতাংশ) তুলনায় এই হার কম।
  • দেশের অন্যান্য মহানগরের তুলনায় কলকাতার আবাসন সংকট ও নগরায়ণের সমস্যাটি দীর্ঘদিনের।
  • গ্রাম থেকে মানুষের শহরমুখী হওয়া এবং ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতাকে এই সমস্যার মূল কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *