বাংলাদেশ থেকে প্রত্যাবাসন: কেন্দ্রকে ‘শেষ সুযোগ’ সুপ্রিম কোর্টের, অবস্থান স্পষ্ট করার চরম নির্দেশ! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
আগে বাংলাদেশ নির্বাসিত হওয়া ব্যক্তিদের ভারতে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করার শেষ সুযোগ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চ সাফ জানিয়েছে, এই বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে আদালত সরাসরি চূড়ান্ত শুনানিতে চলে যাবে। কলকাতা হাইকোর্ট আগেই গর্ভবতী নারী সোনালী খাতুন ও অন্যদের বাংলাদেশে পাঠানোকে ‘বেআইনি’ ঘোষণা করেছিল, যা চ্যালেঞ্জ করে কেন্দ্র শীর্ষ আদালতে আবেদন করে।
মানবিকতা বনাম নাগরিকত্বের লড়াই
আদালত স্পষ্ট করেছে যে, দিল্লি থেকে তুলে নিয়ে যাঁদের বাংলাদেশে পুশ-ব্যাক করা হয়েছিল, তাঁদের শেষ পর্যন্ত দিল্লিতেই ফিরিয়ে আনতে হবে। গত বছর ডিসেম্বরে মানবিক কারণে গর্ভবতী সোনালী ও তাঁর আট বছরের সন্তানকে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছিল আদালত। বর্তমানে সোনালীর বাবা ভোদু শেখ এবং আইনজীবী কপিল সিব্বল দাবি জানিয়েছেন যে, শুধু মা ও শিশু নয়, সোনালীর স্বামীসহ বাংলাদেশে থাকা অন্যদেরও ভারতে ফিরিয়ে আনা হোক।
আইনি জটিলতা ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা তাঁদের ভারতীয় নাগরিকত্বের দাবির বিরোধিতা করেছেন। সরকারের দাবি, তাঁরা মূলত বাংলাদেশি এবং শুধুমাত্র মানবিক কারণেই প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। তবে আদালত পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, ভোদু শেখের সাথে সোনালীর রক্তের সম্পর্ক প্রমাণিত হলে তা তাঁর ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য যথেষ্ট হবে। এই মামলার রায়ের ওপর নির্ভর করছে ভবিষ্যতে সীমান্তে পুশ-ব্যাক সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়ার গতিপ্রকৃতি।
এক ঝলকে
- বাংলাদেশ নির্বাসিত ব্যক্তিদের ফেরানো নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে চূড়ান্ত সময়সীমা দিল সুপ্রিম কোর্ট।
- কলকাতা হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী ওই ব্যক্তিদের নির্বাসন দেওয়া ছিল সম্পূর্ণ বেআইনি।
- মানবিক খাতিরে গর্ভবতী নারী ও তাঁর শিশুকে আগেই ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।
- নাগরিকত্ব নিয়ে কেন্দ্রের আপত্তির মাঝেই সোনালীর স্বামীসহ অন্যদের ফেরানোর দাবি উঠেছে আদালতে।
