বাংলায় অবশেষে ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার, একগুচ্ছ কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুফল পাওয়ার অপেক্ষায় রাজ্যবাসী

পশ্চিমবঙ্গের দীর্ঘ ১৫ বছরের রাজনৈতিক অচলাবস্থার অবসান ঘটিয়ে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল অনুযায়ী, বিপুল জনসমর্থন নিয়ে রাজ্যে ক্ষমতায় আসতে চলেছে বিজেপি। আগামী ৯ মে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণের কথা থাকলেও, তার আগেই সাধারণ মানুষের মধ্যে শুরু হয়েছে এক নতুন প্রত্যাশা। রাজ্যে ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় দীর্ঘদিনের বকেয়া কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলি এবার রাজ্যে পুরোদমে কার্যকর হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বিদায়ী সরকারের সঙ্গে কেন্দ্রের যে টানাপোড়েন চলছিল, তার অবসান ঘটিয়ে এখন স্বাস্থ্য, আবাসন, পানীয় জল ও কর্মসংস্থানের মতো মৌলিক ক্ষেত্রগুলোতে আমূল পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে এতদিন যে প্রকল্পগুলো নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে মতবিরোধ ছিল, সেগুলো এখন অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা হবে।
স্বাস্থ্য ও বাসস্থানের নতুন দিগন্ত
রাজ্যের সাধারণ মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় সুখবর হতে চলেছে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পের বাস্তবায়ন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিটি পরিবার বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসার সুযোগ পাবে। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, নতুন সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই এই প্রকল্প অনুমোদিত হবে। এর পাশাপাশি, স্বচ্ছতার সঙ্গে ‘প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা’র কাজ ত্বরান্বিত করা হবে, যাতে গ্রামীণ ও শহুরে এলাকার দরিদ্র মানুষ দ্রুত মাথার ওপর পাকা ছাদ পেতে পারেন। মৎস্যজীবীদের উন্নয়নের জন্য ‘প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনা’ চালুর মাধ্যমে সরাসরি আর্থিক সহায়তা ও বিমা নিশ্চিত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
ভৌত কাঠামো ও গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়ন
‘জল জীবন মিশন’-এর আওতায় রাজ্যের প্রতিটি ঘরে পাইপলাইনের মাধ্যমে পানীয় জল পৌঁছে দেওয়া এখন সময়ের অপেক্ষা। এর আগে প্রশাসনিক জটিলতায় যে অর্থ অব্যবহৃত ছিল, তা এবার দ্রুত কাজে লাগানো সম্ভব হবে। অন্যদিকে, বাংলার হস্তশিল্পী ও কারিগরদের জন্য ‘পিএম বিশ্বকর্মা যোজনা’ এক নতুন দিশা দেখাবে। তাঁতি, কুমোর ও কামারদের মতো প্রান্তিক পেশার মানুষরা এই প্রকল্পের মাধ্যমে আধুনিক প্রশিক্ষণ ও উন্নত যন্ত্রপাতি পাবেন, যা গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে বড় ভূমিকা রাখবে।
কেন্দ্র ও রাজ্যে একই দলের শাসন থাকার ফলে প্রশাসনিক জটিলতা হ্রাস পাবে এবং কেন্দ্রীয় বরাদ্দের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই রাজনৈতিক পালাবদল বাংলার আর্থ-সামাজিক কাঠামোতে কতখানি গতি আনে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
