বাংলায় আমূলের বড় পদক্ষেপ, হাওড়ায় তৈরি হচ্ছে বিশ্বের বৃহত্তম দই উৎপাদন কেন্দ্র – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
সিঙ্গুরে শিল্পায়নের অধরা স্বপ্ন পূরণে মরিয়া বিজেপি সরকার! বাংলায় টাটা গোষ্ঠীকে ফেরাতে নজিরবিহীন উদ্যোগ
বাংলায় শিল্পায়নের চাকা দ্রুত ঘোরাতে এবার সরাসরি উদ্যোগী হয়েছে রাজ্যের সদ্য নির্বাচিত বিজেপি সরকার। বাম আমলে সিঙ্গুরে যে গাড়ি কারখানার স্বপ্ন অধরা থেকে গিয়েছিল, তাকে বাস্তবে রূপ দিতে এবার নতুন করে কোমর বেঁধে নেমেছে গেরুয়া শিবির। দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, টাটা গোষ্ঠীকে বাংলায় ফিরিয়ে আনা তাদের কাছে একটি বড় চ্যালেঞ্জ এবং এই লক্ষ্য পূরণে তারা বদ্ধপরিকর।
রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীও বাংলার হারানো অর্থনৈতিক গৌরব ফিরিয়ে আনতে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন। শমীক ভট্টাচার্যের কথায়, বিনিয়োগের পরিবেশ ফেরাতে টাটা গোষ্ঠীর প্রত্যাবর্তন অত্যন্ত জরুরি। তিনি অভিযোগ করেন, গত কয়েক বছরে রাজ্যে বিনিয়োগের যে অনীহা তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে একটি ইতিবাচক বার্তা দিতে চায় নতুন সরকার। তাদের মতে, রাজ্যের সামগ্রিক স্বার্থ যেকোনো রাজনৈতিক অহংকারের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ইতিমধ্যেই টাটা গোষ্ঠীর শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
টাটা প্রত্যাবর্তন ও কর্মসংস্থানের নতুন আশা
সিঙ্গুর প্রসঙ্গ সামনে আসতেই বিজেপি রাজ্য সভাপতি জানিয়েছেন, স্থান নির্বাচন বড় কোনো বিষয় নয়। টাটা গোষ্ঠী যদি সিঙ্গুরেই ফিরতে চায়, তবে সরকার সেই পথ সুগম করবে। বিকল্প হিসেবে রাজ্যের যেকোনো উপযুক্ত স্থানে কারখানা স্থাপনের সুযোগও খোলা রাখা হয়েছে। মূল লক্ষ্য হলো টাটা গোষ্ঠীকে ফিরিয়ে এনে বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন করা, যা গোটা দেশে বাংলার ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সিঙ্গুর আন্দোলনকে ঘিরে যে ঐতিহাসিক পটপরিবর্তন হয়েছিল, টাটা গোষ্ঠীর প্রত্যাবর্তন তাকেই নতুন মোড় দিতে পারে। এটি সফল হলে একদিকে যেমন রাজ্যের হাজার হাজার বেকার যুবকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, তেমনি বিজেপির এই ‘টাটা মিশন’ রাজনৈতিক ময়দানে বিরোধীদের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। এখন দেখার বিষয়, নবান্নের এই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়।
