বাংলায় প্রথম বিজেপি সরকার, জয়ের আবহে শুরু মুখ্যমন্ত্রীর গদি দখলের হাইভোল্টেজ লড়াই – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
দীর্ঘ কয়েক দশকের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবারের মতো ক্ষমতায় বসতে চলেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, ১৯৭টি আসনে এগিয়ে থেকে ম্যাজিক ফিগার অতিক্রম করেছে গেরুয়া শিবির। তবে এই ঐতিহাসিক জয়ের আনন্দের মাঝেই এখন রাজনৈতিক মহলে সবথেকে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে— কে হবেন বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী? নির্বাচনী প্রচারে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বার বার ‘ভূমিপুত্র’কে মুখ্যমন্ত্রী করার যে আশ্বাস দিয়েছিলেন, তা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে।
মুখ্যমন্ত্রী পদের দৌড়ে ফ্রন্ট-রানার শুভেন্দু
তৃণমূলের ‘বহিরাগত’ তকমা ঘোচাতে এবং বাংলার আবেগ বুঝতে পারে এমন মুখ খুঁজছে দিল্লি। এই তালিকায় সবার আগে উঠে আসছে বর্তমান বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর নাম। ২০২১ সালে নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করার পর থেকেই তিনি দলের প্রধান সেনাপতি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। গত পাঁচ বছরে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে লাগাতার আন্দোলন এবং সাংগঠনিক দক্ষতায় কর্মীদের আস্থা অর্জন করায় বিশ্লেষকরা তাঁকেই মুখ্যমন্ত্রী পদের প্রধান দাবিদার হিসেবে দেখছেন।
হেভিওয়েট নামের ভিড়ে জল্পনা তুঙ্গে
শুভেন্দু অধিকারীর পাশাপাশি আরও বেশ কিছু হেভিওয়েট নাম নিয়ে জোর চর্চা চলছে বঙ্গ বিজেপির অন্দরমহলে। আরএসএস-ঘনিষ্ঠ এবং সুবক্তা হিসেবে পরিচিত বর্তমান রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পছন্দের তালিকায় রয়েছেন। অন্যদিকে, বাংলায় বিজেপির উত্থানের কারিগর তথা জনপ্রিয় নেতা দিলীপ ঘোষও জনপ্রিয়তার নিরিখে পিছিয়ে নেই। এছাড়া উত্তরবঙ্গের প্রতিনিধি সুকান্ত মজুমদার এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আস্থাভাজন বুদ্ধিজীবী মুখ স্বপন দাশগুপ্তের নাম নিয়েও জল্পনা জারি রয়েছে।
প্রভাব ও কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত
এই জয়ের ফলে বাংলার প্রশাসনিক কাঠামোয় আমূল পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনের ক্ষেত্রে দিল্লি কার ওপর ভরসা রাখে, তার ওপর নির্ভর করছে আগামীর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। একদিকে শুভেন্দু অধিকারীর লড়াকু ভাবমূর্তি, অন্যদিকে শমীক বা সুকান্তর মতো নেতাদের গ্রহণযোগ্যতা— সব মিলিয়ে এক কঠিন সমীকরণের মুখে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। এখন দেখার, ‘দিল্লি’ শেষ পর্যন্ত কার মাথায় বাংলার রাজতিলক পরায়।
