বাংলায় বাহিনীর অপচয় হচ্ছে, বিস্ফোরক দাবিতে পহেলগাঁও প্রসঙ্গ টেনে আনলেন ফিরহাদ হাকিম – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণের দিনে কেন্দ্রীয় বাহিনীর মোতায়েন নিয়ে এক নজিরবিহীন তর্কে জড়ালেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। বুধবার সকালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ফিরহাদের দাবি, বাংলার শান্তিকামী ভোটারদের ভয় দেখানোর জন্য যেভাবে জওয়ানদের অপচয় করা হচ্ছে, তা দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর।
সীমান্ত রক্ষা বনাম নির্বাচনী ডিউটি
মেয়র অভিযোগ করেন যে, বাংলার প্রতিটি বুথে বা মোড়ে মোড়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে বসিয়ে রেখে আসলে জওয়ানদের জীবনের ঝুঁকি বাড়ানো হচ্ছে। তাঁর যুক্তি অনুযায়ী, পহেলগাঁও বা কাশ্মীরের মতো স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে পর্যাপ্ত বাহিনী থাকলে সাম্প্রতিক সময়ের অনেক নাশকতা এড়ানো সম্ভব হতো এবং জওয়ানদের অকাল মৃত্যু ঠেকানো যেত। দেশের সীমান্ত সুরক্ষার বদলে নির্বাচনে বিপুল শক্তি ব্যয় করাকে তিনি ‘গণতন্ত্রের প্রহসন’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
আক্রমণ ও পালটা আক্রমণের রাজনীতি
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গত সোমবার গভীর রাতে ফিরহাদ হাকিমের বাড়িতে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পর্যবেক্ষকের আচমকা পরিদর্শনের ক্ষোভ থেকেই এই মন্তব্য উঠে এসেছে। অন্যদিকে বিজেপি এই বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করে জানিয়েছে, রাজ্যের ভোট পরবর্তী হিংসা ও সন্ত্রাস রুখতেই কমিশন কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। বিরোধীদের মতে, জাতীয় নিরাপত্তা ও কাশ্মীর প্রসঙ্গ টেনে ফিরহাদ আসলে নির্বাচনের গুরুত্বকে খাটো করার চেষ্টা করছেন।
এক ঝলকে
- নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় বাহিনীর অপচয়ের অভিযোগ তুললেন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম।
- বাংলার বদলে পহেলগাঁও বা সীমান্তে জওয়ানদের মোতায়েন করলে প্রাণ বাঁচত বলে তিনি দাবি করেন।
- মন্ত্রীর এই বক্তব্যকে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে ‘বিপজ্জনক’ বলে মন্তব্য করেছে বিজেপি।
- ভোটের দিন কেন্দ্রীয় বাহিনীর অতি-সক্রিয়তা নিয়ে তৃণমূল ও কমিশনের সংঘাত আরও তীব্র হলো।
