বাংলায় বিজেপিকে সুযোগ দিচ্ছে তৃণমূলই, মোদী-মমতাকে একযোগে তোপ রাহুলের!

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের দামামা: ব্যাকফুটে শাসক ও বিরোধী, রায়গঞ্জের সভা থেকে কড়া বার্তা রাহুল গান্ধীর
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর প্রেক্ষাপটে উত্তরবঙ্গের রায়গঞ্জে আয়োজিত এক জনসভা থেকে রাজনৈতিক পারদ চড়ালেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এবং কেন্দ্রীয় শাসক দল বিজেপি—উভয়কেই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে রাহুল দাবি করেন, বাংলার রাজনীতিতে এই দুই দল আসলে একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করছে। কর্মসংস্থান থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য স্তরের বিভিন্ন দুর্নীতির বিষয় টেনে এনে তিনি কংগ্রেসকেই রাজ্যের একমাত্র বিকল্প শক্তি হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন।
তৃণমূল ও বিজেপির গোপন সমীকরণ নিয়ে রাহুল গান্ধীর খোঁচা
রাহুল গান্ধী তাঁর বক্তব্যে সরাসরি অভিযোগ করেন, রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস পরোক্ষভাবে বিজেপিকে রাজনৈতিক জমি প্রস্তুত করে দিচ্ছে। তিনি বলেন, একদিকে মোদী সরকারের নীতিতে সারা দেশের ক্ষতি হচ্ছে এবং অন্যদিকে তৃণমূলের শাসনে বাংলার সাধারণ মানুষ বঞ্চিত হচ্ছে। তৃণমূল এবং বিজেপিকে ‘দ্বিমুখী শত্রু’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে রাহুল মন্তব্য করেন, বাংলার মানুষের দুর্ভোগের পেছনে এই দুই দলের মানসিকতা দায়ী। তাঁর মতে, নীতিগত অবস্থানে দুই দলের মধ্যে খুব একটা পার্থক্য নেই।
মোদানি ও মোদীর পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে বিতর্কিত দাবি
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে লক্ষ্য করে রাহুল গান্ধী এদিন অত্যন্ত তীক্ষ্ণ আক্রমণ শানান। বিশেষ করে আদানি শিল্পগোষ্ঠীকে তিনি ‘মোদানি কো ম্পা নি’ হিসেবে অভিহিত করে দাবি করেন, এই প্রতিষ্ঠানগুলো প্রধানমন্ত্রী ও শিল্পপতির যৌথ অংশীদারিত্বে পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া আমেরিকার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রসঙ্গের অবতারণা করে তিনি দাবি করেন, প্রভাবশালী নেতাদের কিছু গোপন নথি ভিন্ন রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকায় ভারতের পররাষ্ট্রনীতি প্রভাবিত হচ্ছে। বিজেপির বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানো এবং সংবিধান ধ্বংসের ষড়যন্ত্রেরও অভিযোগ তোলেন তিনি।
বেকারত্ব ও আর জি করের মতো স্পর্শকাতর ইস্যু
রাজ্য সরকারের ব্যর্থতা হিসেবে বিশাল বেকারত্বের হারকে সামনে এনেছেন কংগ্রেস নেতা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেওয়া ৫ লক্ষ চাকরির প্রতিশ্রুতির বিপরীতে ৮৪ লক্ষ বেকারের ভাতার জন্য আবেদন করার যে পরিসংখ্যান তিনি দিয়েছেন, তা রাজ্যের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির করুণ চিত্র তুলে ধরে। পাশাপাশি আর জি কর কাণ্ড, সারদা চিটফান্ড কেলেঙ্কারিতে ১৭ লক্ষ আমানতকারীর ১৯০০ কোটি টাকা ফেরত না পাওয়া এবং কয়লা পাচার কাণ্ড নিয়েও তৃণমূলের বিরুদ্ধে সিন্ডিকেট রাজের তোপ দেগেছেন তিনি। রাহুলের মতে, মমতার নীতি বাংলায় শিল্পস্থাপনের পরিবর্তে সিন্ডিকেট সংস্কৃতিকে প্রশ্রয় দিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও প্রভাব
রাহুল গান্ধীর এই আক্রমণাত্মক অবস্থান স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দিচ্ছে, ২০২৬-এর ভোটে কংগ্রেস কোনো সমঝোতার পথে না হেঁটে বিজেপির ‘সাম্প্রদায়িক রাজনীতি’ এবং তৃণমূলের ‘দুর্নীতি ও স্বৈরাচারের’ বিরুদ্ধে লড়তে চায়। বাংলার সংখ্যালঘু ও বামমনস্ক ভোটব্যাংক পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যেই তিনি আর জি করের মতো সংবেদনশীল ইস্যুগুলোকে ইস্যু হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। তবে এই কৌশল তৃণমূল বা বিজেপির ভোটব্যাংকে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলবে।
এক ঝলকে
- রাহুল গান্ধীর দাবি, বাংলায় বিজেপি এবং তৃণমূল একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করছে।
- আদানি গোষ্ঠীকে ‘মোদানি’ আখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যোগসাজশ থাকার অভিযোগ।
- ৫ লক্ষ চাকরির প্রতিশ্রুতি বনাম রাজ্যের ৮৪ লক্ষ বেকারের নথি তুলে ধরলেন মমতা সরকারের ব্যর্থতা হিসেবে।
- সারদা দুর্নীতি, কয়লা কেলেঙ্কারি এবং আর জি কর ইস্যু নিয়ে তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ।
- বিজেপি ও আরএসএস-কে দেশের সংবিধান ধ্বংসের মূল কারিগর হিসেবে চিহ্নিতকরণ।
