বাংলায় রুদ্ধশ্বাস টক্কর, আসামে হিমন্ত-ঝড়! দক্ষিণ কি ফেরাবে খালি হাতে? ৪ মে-র দিকে তাকিয়ে দেশ!

২০২৬ সালের পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ পর্ব শেষ হতেই প্রকাশিত হয়েছে বুথফেরত সমীক্ষা। এতে দেখা যাচ্ছে, উত্তর ও উত্তর-পূর্ব ভারতে গেরুয়া শিবিরের আধিপত্য বজায় থাকলেও দক্ষিণ ভারতে এখনও বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে বিজেপি। পশ্চিমবঙ্গ থেকে আসাম— সর্বত্র পদ্ম শিবিরের শক্তিবৃদ্ধির ইঙ্গিত মিললেও কেরল বা তামিলনাড়ুতে বিশেষ সুবিধা করতে পারেনি তারা। ফলে ৪ মে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে গোটা দেশ।
আসামে হিমন্তের ম্যাজিক ও বাংলায় হাড্ডাহাড্ডি লড়াই
বিজেপির জন্য সবথেকে বড় সুখবর আসছে ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা থেকে। এক্সিট পোল অনুযায়ী, আসামে টানা তৃতীয়বারের জন্য ক্ষমতায় ফিরতে চলেছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট। ‘পোল অফ পোলস’-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, রাজ্যে তারা ৮৭ থেকে ৯৯টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গের চিত্রটি বেশ জটিল। অধিকাংশ সমীক্ষায় বিজেপিকে সামান্য এগিয়ে রাখা হলেও লড়াই অত্যন্ত তপ্ত। গেরুয়া শিবির ১৪৩ থেকে ১৬৫টি আসন পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যেখানে তৃণমূলের ঝুলিতে যেতে পারে ১২২ থেকে ১৪১টি আসন। ফলে বাংলার মসনদ কার দখলে যাচ্ছে, তা নিয়ে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সংশয় থাকছে।
দক্ষিণে অম্ল-মধুর ফলাফল
দক্ষিণ ভারতের প্রধান দুই রাজ্য কেরল ও তামিলনাড়ুতে বিজেপির ঝুলি কার্যত শূন্যই থাকছে বলে ইঙ্গিত দিচ্ছে অধিকাংশ সমীক্ষক সংস্থা। তামিলনাড়ুতে বিজেপিকে এখনও প্রধান শক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে না। তবে দাক্ষিণাত্য থেকে একমাত্র স্বস্তির খবর এসেছে পুদুচেরি থেকে। সেখানে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট প্রায় ১৭টি আসন জিতে সরকার গড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সামগ্রিকভাবে হিন্দি বলয় ও উত্তর-পূর্বে পদ্ম শিবিরের ভিত্তি মজবুত হলেও দাক্ষিণাত্যের মূল ভূখণ্ডে তাদের লড়াই এখনও বেশ কঠিন।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ফলাফলের প্রভাব জাতীয় রাজনীতিতে সুদূরপ্রসারী হতে পারে। একদিকে যেমন হিমন্ত বিশ্ব শর্মার জনপ্রিয়তা প্রমাণিত হচ্ছে, অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের একাধিপত্যে বড়সড় ফাটল ধরার ইঙ্গিত মিলছে। তবে বুথফেরত সমীক্ষা সবসময় বাস্তবের সাথে না-ও মিলতে পারে, তাই চূড়ান্ত উত্তরের জন্য ৪ মে ইভিএম খোলার অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই।
এক ঝলকে
- আসামে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট ৮৭-৯৯টি আসন পেয়ে হ্যাটট্রিকের পথে।
- পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত, এগিয়ে বিজেপি।
- দক্ষিণ ভারতের কেরল ও তামিলনাড়ুতে বিশেষ প্রভাব ফেলতে পারছে না গেরুয়া শিবির।
- ৪ মে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষিত হবে, যা নির্ধারণ করবে পাঁচ রাজ্যের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ।
