‘বাংলায় ৪ কোটি মুসলিম, নমাজ পড়বই’, দমদম বিমানবন্দরে মসজিদ বিতর্ক ঘিরে হুঙ্কার সিদ্দিকুল্লাহর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
দমদম বিমানবন্দরের রানওয়ে লাগোয়া বাঁকড়া মসজিদ স্থানান্তর ঘিরে এবার তৈরি হল চরম জটিলতা। বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ ও কড়া নিরাপত্তার স্বার্থে কর্তৃপক্ষ যখন মসজিদটি সরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ঠিক তখনই সেখানে নমাজ পড়ার ডাক দিলেন জমিয়ত উলেমা-এ-হিন্দের রাজ্য সভাপতি সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী। শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টায় তাঁর এই নমাজ পড়ার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।
বিতর্কের মূলে কী?
- কর্তৃপক্ষের কড়া অবস্থান: আন্তর্জাতিক উড়ান সুরক্ষাবিধি অনুযায়ী, রানওয়ে থেকে যে কোনও কাঠামোর ন্যূনতম দূরত্ব ২৪০ মিটার হওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু বাঁকড়া মসজিদটি সেকেন্ডারি রানওয়ে থেকে মাত্র ১৬৫ মিটার দূরে অবস্থিত। কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, কোনও বৈধ পাস ছাড়াই প্রতিদিন বহু মানুষ সেখানে প্রবেশ করেন, যা উড়ান ও যাত্রীদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড়সড় ঝুঁকি তৈরি করছে।
- সিদ্দিকুল্লাহর দাবি ও হুঁশিয়ারি: প্রাক্তন মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরীর পাল্টা দাবি, এই মসজিদের সমস্ত আইনি বৈধতা ও নথিপত্র তাঁদের কাছে রয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “বাংলায় ৪ কোটি মুসলিম রয়েছেন, আমি ওই মসজিদে নমাজ পড়তে যাব।” তবে তিনি আশ্বস্ত করেছেন, কোনওরকম অশান্তি বা মাইকিং করা হবে না, নমাজ পড়া হবে শান্তিপূর্ণভাবেই। পাশাপাশি কেন্দ্র চাইলে তাঁরা আলোচনার জন্যও প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন।
- বিজেপির কড়া প্রতিক্রিয়া: এই ইস্যুতে সরব হয়েছে গেরুয়া শিবিরও। বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য সাফ জানিয়েছেন, এটি সরাসরি জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন। সুরক্ষার স্বার্থে নিয়ম মেনে মন্দির হোক বা মসজিদ—সবই সরানো উচিত।
বিমানবন্দরে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা
দমদম বিমানবন্দরের মতো দেশের অন্যতম হাই-সিকিউরিটি জ়োনে এই ধরনের জমায়েতের ঘোষণায় স্বভাবতই প্রশাসনের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। শুক্রবার যাতে কোনওভাবেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না হয়, তার জন্য বিমানবন্দর ও সংলগ্ন এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।
