বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে? সৌমিত্র খাঁ-র ইঙ্গিত আর শাহ-শুভেন্দু সমীকরণ ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন ইতিহাস লিখতে চলেছে বিজেপি। রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন, তা চূড়ান্ত করতে আজ বিকেলে বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে বৈঠকে বসছে বিজেপির কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নেতৃত্ব। এই গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনে যোগ দিতে ইতিপূর্বেই কলকাতায় পৌঁছে গিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এরই মধ্যে বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁর একটি ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য জল্পনার পারদ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। সৌমিত্র জানিয়েছেন, একজন প্রকৃত ‘জননেতা’ মুখ্যমন্ত্রী হবেন, যিনি শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্বপ্ন পূরণ করতে পারবেন।
মুখ্যমন্ত্রী পদের দৌড়ে এগিয়ে যারা
রাজনৈতিক মহলে সবথেকে বেশি চর্চিত হচ্ছে শুভেন্দু অধিকারীর নাম। ২০২১ সালে নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করার পর ২০২৬ সালের নির্বাচনেও ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম দুই কেন্দ্রেই জয়ী হয়ে নিজের সাংগঠনিক শক্তির পরিচয় দিয়েছেন তিনি। বিরোধী দলনেতা হিসেবে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং প্রশাসনিক দক্ষতার কারণে তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী পদের প্রধান দাবিদার মনে করা হচ্ছে। তবে শুভেন্দুর পাশাপাশি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের নামটিও জোরালোভাবে উঠে আসছে। ‘ভদ্র ও মার্জিত’ ভাবমূর্তির শমীককে মুখ্যমন্ত্রী করে দল চমক দিতে পারে বলেও অনেকের ধারণা। এছাড়া মহিলা নেতৃত্বের মধ্যে রূপা গঙ্গোপাধ্যায় ও অগ্নিমিত্রা পলের নাম নিয়েও আলোচনা চলছে।
অমিত শাহের মেগা বৈঠক ও ইঙ্গিত
আজ সকালে দক্ষিণেশ্বর মন্দিরে পুজো দিয়ে অমিত শাহ যখন হোটেলের উদ্দেশ্যে রওনা হন, তখন তাঁর গাড়িতেই ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী ও শমীক ভট্টাচার্য। দীর্ঘ যাত্রাপথে তাঁদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্য প্রশাসনে অভিজ্ঞ কাউকেই শেষ পর্যন্ত বেছে নিতে পারে গেরুয়া শিবির, যাতে নতুন সরকার শুরু থেকেই শক্ত হাতে শাসনভার পরিচালনা করতে পারে। আজকের বিকেলের বৈঠকেই এই দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নামের ওপর আনুষ্ঠানিক সিলমোহর পড়তে যাচ্ছে।
এক ঝলকে
- মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন করতে কলকাতায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে মেগা বৈঠক।
- জননেতা এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আদর্শ অনুসারীই মুখ্যমন্ত্রী হবেন বলে জানিয়েছেন সৌমিত্র খাঁ।
- মুখ্যমন্ত্রীর দৌড়ে প্রবলভাবে এগিয়ে রয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী ও শমীক ভট্টাচার্য।
- প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ও বাঙালি ভাবমূর্তিকে প্রাধান্য দিয়েই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারে বিজেপি নেতৃত্ব।
