বাংলার বাড়ি প্রকল্পের উপভোক্তারা কি আদৌ যোগ্য, এবার স্ক্রিনিংয়ের কড়া নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর – এবেলা

বাংলার বাড়ি প্রকল্পের উপভোক্তারা কি আদৌ যোগ্য, এবার স্ক্রিনিংয়ের কড়া নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই প্রশাসনিক স্তরে একের পর এক বড় সিদ্ধান্ত নিচ্ছে নতুন সরকার। এবার পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলের ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্প নিয়ে অত্যন্ত কড়া অবস্থান নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই প্রকল্পের আওতায় এযাবৎকাল যাঁরা ঘর পেয়েছেন, তাঁরা আদেও এই সরকারি বাসস্থানের যোগ্য কি না, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করার জন্য রাজ্যের সমস্ত জেলাশাসকদের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। সোমবার রাজ্য সরকারের তরফ থেকে এই মর্মে একটি জরুরি বিজ্ঞপ্তিও জারি করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে পরিষ্কার জানানো হয়েছে, আগামী ৩০ মে অর্থাৎ শনিবারের মধ্যে এই স্ক্রিনিং বা পুনর্বিবেচনা প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে হবে। নতুন সরকারের এই আকস্মিক পদক্ষেপে রাজ্যজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

দুর্নীতি রুখতে কড়া পদক্ষেপ

নবান্ন সূত্রে খবর, পূর্বতন সরকারের আমলে ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের সুবিধা বণ্টনে ব্যাপক অনিয়ম ও স্বজনপোষণের অভিযোগ উঠেছিল। বহু প্রকৃত দুঃস্থ ও গৃহহীন মানুষ এই প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, অথচ আর্থিক ও সামাজিকভাবে সচ্ছল ব্যক্তিরা ক্ষমতার অপব্যবহার করে বেআইনিভাবে সরকারি বাড়ি হাতিয়ে নিয়েছেন। এই ধরণের অযোগ্য উপভোক্তাদের চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া এবং যোগ্যদের প্রকৃত অধিকার ফিরিয়ে দেওয়াই নতুন মুখ্যমন্ত্রীর মূল লক্ষ্য। আর সেই কারণেই এই সময়সীমাবদ্ধ যাচাইকরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক প্রভাব

মন্ত্রিসভা গঠনের পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী একের পর এক দুর্নীতি ও প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তার বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিচ্ছেন। শিক্ষা ক্ষেত্রে নিম্নমানের স্কুল ইউনিফর্মের জোগান থেকে শুরু করে আর জি কর কাণ্ডের ফাইল পুনর্বিবেচনা এবং আইপিএস অফিসারদের সাসপেনশনের মতো ঘটনাপ্রবাহ তারই প্রমাণ। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের এই স্ক্যানিং প্রক্রিয়ার ফলে বহু ভুয়ো উপভোক্তার নাম তালিকা থেকে বাদ পড়তে চলেছে। এর ফলে একদিকে যেমন সরকারি তহবিলের অপচয় কমবে, তেমনই অন্যদিকে প্রকৃত যোগ্য মানুষদের কাছে সরকারি সুবিধা পৌঁছানোর পথ আরও মসৃণ হবে। আগামী শনিবারে এই স্ক্রিনিংয়ের রিপোর্ট জমা পড়ার পর রাজ্য সরকার পরবর্তী কী আইনি পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *