বাংলার ভোটের মোড় ঘুরিয়ে দিল রাহুল গান্ধীর এক সিদ্ধান্ত! ২৯৪ আসনেই কি এবার হবে চতুর্মুখী লড়াই – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
২০২৬-এর হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণ এক ধাক্কায় বদলে দিল জাতীয় কংগ্রেস। শনিবার দিল্লিতে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির (CEC) ম্যারাথন বৈঠকের পর ঘোষণা করা হয়েছে যে রাজ্যে কোনো জোট নয় বরং ২৯৪টি আসনেই এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে কংগ্রেস। এমনকি খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্র ভবানীপুরেও শক্তিশালী প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে হাইকম্যান্ড।
মল্লিকার্জুন খাড়গে, রাহুল গান্ধী এবং অধীর রঞ্জন চৌধুরীর উপস্থিতিতে এই বৈঠকের পর এআইসিসি (AICC) ইনচার্জ গোলাম আহমেদ মীর স্পষ্ট জানিয়েছেন যে প্রতিটি আসনেই প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং অতি শীঘ্রই তালিকা প্রকাশ করা হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে কংগ্রেসের এই ‘একলা চলো’ সিদ্ধান্ত মূলত তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির দ্বি-মেরু লড়াইয়ে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার এক বড় লড়াই। রাজ্যে ইতিমধ্য়েই তৃণমূল ২৯১টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে এবং বামেরা আইএসএফ-এর সঙ্গে জোট বেঁধে ময়দানে নেমেছে। অন্যদিকে বিজেপি ভবানীপুর কেন্দ্রে শুভেন্দু অধিকারীর নাম ঘোষণা করে লড়াইকে অন্য মাত্রায় নিয়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেসের এককভাবে লড়ার সিদ্ধান্ত বিজেপি-বিরোধী ভোটে বিভাজন ঘটাতে পারে যা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
মীর আরও জানান যে ২৯৪টি আসনের জন্য প্রায় ২৫০০ আবেদনপত্র জমা পড়েছিল যার মধ্যে আটটি আসন বাদে বাকি সব নাম চূড়ান্ত। প্রবীণ নেতা থেকে শুরু করে স্থানীয় স্তরের লড়াকু কর্মীদেরই এবার প্রার্থী তালিকায় অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল দুই দফায় ভোটগ্রহণের আগে কংগ্রেসের এই সক্রিয়তা ভোট ময়দানকে আক্ষরিক অর্থেই চতুর্মুখী লড়াইয়ের রূপ দিল। ৪ মে নির্বাচনের ফল ঘোষণা হলে বোঝা যাবে কংগ্রেসের এই নিজেদের পুনঃপ্রতিষ্ঠার লড়াই বাংলার রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলতে পারল।

