বাংলার মসনদে এবার পালাবদল, সবুজ ঝড়ে ইতি টেনে নবান্ন দখলে নিল বিজেপি

দীর্ঘ দেড় দশকের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় এক ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটল। ২০০-র বেশি আসন নিয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে নবান্ন দখলের পথে ভারতীয় জনতা পার্টি। উত্তরবঙ্গের একাধিপত্য বজায় রাখার পাশাপাশি এবার দক্ষিণবঙ্গের তথাকথিত ‘তৃণমূলের দুর্গ’ হিসেবে পরিচিত জেলাগুলিতেও ব্যাপক ধস নামিয়ে অভাবনীয় জয় ছিনিয়ে নিল গেরুয়া শিবির।
জেলাভিত্তিক ফলাফলে বিজেপির আধিপত্য
নির্বাচনী ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে, উত্তরবঙ্গের কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়িতে কার্যত বিরোধীশূন্য ফল করেছে বিজেপি। জঙ্গলমহল ও রাঢ়বঙ্গের বাঁকুড়া, পুরুলিয়া এবং ঝাড়গ্রামের সবকটি আসনেই ফুটেছে পদ্ম। এমনকি তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত উত্তর ২৪ পরগনার ৩৩টি আসনের মধ্যে ২৫টিতেই জয়ী হয়েছে বিজেপি। পূর্ব মেদিনীপুরের ১৬টি আসনের সবকটিই এখন তাদের দখলে। রাজধানী কলকাতাতেও ১১টি আসনের মধ্যে ৬টিতে জয়লাভ করে শাসক দলকে বড় ধাক্কা দিয়েছে বিজেপি। অন্যদিকে, তৃণমূল শুধুমাত্র দক্ষিণ ২৪ পরগনায় নিজেদের আধিপত্য কোনোমতে ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।
পরিবর্তনের কারণ ও প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া এবং গ্রামীণ ও শহর উভয় অঞ্চলেই বিজেপির সুসংগঠিত প্রচার এই জয়ের প্রধান কারণ। বিশেষ করে পূর্ব মেদিনীপুর ও জঙ্গলমহলে তৃণমূলের সাংগঠনিক দুর্বলতা বিজেপিকে একতরফা সুবিধা করে দিয়েছে। মালদহ ও মুর্শিদাবাদে কড়া টক্কর হলেও বাকি রাজ্যে মোদী-ঝড়ের কাছে ফিকে হয়ে গেছে ঘাসফুল শিবির।
এই পালাবদলের ফলে পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কাঠামোতে আমূল পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন— সোনার বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কার নাম ঘোষণা করবে বিজেপি নেতৃত্ব। আজ ৫ মে সকাল থেকেই কলকাতার রাজভবন থেকে দিল্লির কেন্দ্রীয় সদর দফতর পর্যন্ত সাজ সাজ রব তুঙ্গে। এখন শুধু নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা।
