বাংলার মাটি থেকে তৃণমূলকে হঠানোর হুঁশিয়ারি দিয়ে দ্বিতীয় দফার প্রচারে নতুন রেকর্ড গড়ার ডাক দিলেন নরেন্দ্র মোদী! – এবেলা

বাংলার মাটি থেকে তৃণমূলকে হঠানোর হুঁশিয়ারি দিয়ে দ্বিতীয় দফার প্রচারে নতুন রেকর্ড গড়ার ডাক দিলেন নরেন্দ্র মোদী! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

লোকসভা নির্বাচনের রণকৌশল সাজাতে বঙ্গ সফরে এসে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের প্রাক্কালে তিনি দাবি করেছেন, রাজ্যের বেশ কিছু জেলায় তৃণমূল এবার খাতাই খুলতে পারবে না। প্রথম দফার ভোটের পর কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে মোদী আহ্বান জানিয়েছেন, এবার যেন জনসমর্থনের সব পুরনো রেকর্ড ভেঙে যায়। প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র তরজা।

তৃণমূলমুক্ত জেলা গড়ার লক্ষ্য

নির্বাচনী প্রচারমঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে জানান যে, পশ্চিমবঙ্গের মানুষের মধ্যে পরিবর্তন আনার যে স্বতঃস্ফূর্ত আবেগ তৈরি হয়েছে, তা আগে কখনও দেখা যায়নি। তাঁর মতে, শাসকদলের অপশাসন ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ এবার ব্যালট বাক্সে জবাব দেবেন। বিশেষ করে যে সমস্ত জেলাগুলোতে বিরোধী হাওয়া প্রবল, সেখানে তৃণমূলের সাংগঠনিক ভিত্তি পুরোপুরি ধসে পড়বে বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন। এই জেলাভিত্তিক লক্ষ্যপূরণ নিশ্চিত করতে তিনি দলের বুথ স্তরের কর্মীদের সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

ভোটের ময়দানে নতুন রেকর্ডের ডাক

প্রথম দফার নির্বাচনে ভোটারদের উপস্থিতির হার ও সক্রিয়তা দেখে বিজেপি শিবির উৎসাহিত। এই গতিকে বজায় রেখে দ্বিতীয় দফাতেও যেন মানুষ বিপুল সংখ্যায় বুথমুখী হন, সেই বার্তাই দিয়েছেন মোদী। তাঁর দাবি, রাজ্যের উন্নয়নের স্বার্থে এবং কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলোর সঠিক বাস্তবায়নে বিজেপিকে সমর্থন করা জরুরি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মোদীর এই ‘রেকর্ড ভাঙার’ ডাক আসলে ভোটারদের মেরুকরণ ও ভোটদানের হার বাড়িয়ে তৃণমূলের ওপর চাপ সৃষ্টির এক বিশেষ কৌশল। এই সভার পর রাজ্যের নির্বাচনী পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এক ঝলকে

  • বঙ্গ সফরে এসে তৃণমূল কংগ্রেসকে বেশ কিছু জেলায় শূন্য হাতে ফেরার হুঁশিয়ারি দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
  • দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে ভোটদানের হারের ক্ষেত্রে আগের সব রেকর্ড ভাঙার জন্য কর্মীদের উদ্দীপ্ত করেছেন তিনি।
  • শাসকদলের দুর্নীতি ও অপশাসনকে হাতিয়ার করে জনসমর্থন আদায়ের চেষ্টা চালিয়েছে বিজেপি।
  • প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যের ফলে রাজ্যের দ্বিতীয় দফার নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে।

পশ্চিমবঙ্গে লোকসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার লড়াইকে সামনে রেখে প্রচারের ময়দানে তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ শানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রচারের প্রথম দিনের জনসভা থেকেই তিনি দাবি করেছেন যে, রাজ্যের বেশ কিছু জেলায় এবার তৃণমূল কংগ্রেস খাতা খুলতেও পারবে না। বিজেপি প্রার্থীদের সমর্থনে আয়োজিত সভায় প্রধানমন্ত্রী দলীয় কর্মীদের মনোবল বাড়াতে প্রথম দফার ভোটের হারের রেকর্ড ভেঙে আরও বেশি সংখ্যায় ভোটদানের আহ্বান জানান। তাঁর মতে, বাংলার মানুষ এবার পরিবর্তনের জন্য সংকল্পবদ্ধ।

তৃণমূলের আধিপত্যে ভাঙন ধরার ইঙ্গিত

প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে পরিষ্কার যে, বিজেপি এবার রাজ্যের ঘাসফুল শিবিরের শক্ত ঘাঁটিগুলোতে বড়সড় থাবা বসাতে চাইছে। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, দুর্নীতির অভিযোগে জর্জরিত শাসক দলের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা তলানিতে ঠেকেছে। মোদীর দাবি অনুযায়ী, গ্রামীণ ও শহরতলি এলাকার ভোটাররা এবার সরাসরি পদ্ম শিবিরের পক্ষে রায় দেবেন, যার ফলে বেশ কয়েকটি জেলায় তৃণমূলের আসন সংখ্যা শূন্যে গিয়ে ঠেকতে পারে। এই মন্তব্যকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বিরোধী শিবিরকে মানসিকভাবে চাপে রাখার কৌশল হিসেবেই দেখছেন।

উন্নয়ন বনাম দুর্নীতির লড়াই

ভোটের হার বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের মাধ্যমেই রাজ্যের ভাগ্য পরিবর্তন সম্ভব। তিনি কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুযোগ-সুবিধা বাংলার সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে না দেওয়ার জন্য রাজ্য সরকারকে দায়ী করেন। এই প্রচারের ফলে একদিকে যেমন বিজেপির নিচুতলার কর্মীদের মধ্যে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও এর তীব্র প্রতিক্রিয়া আসার সম্ভাবনা রয়েছে। দ্বিতীয় দফার এই হাই-ভোল্টেজ প্রচার বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও উত্তপ্ত করে তুলল।

এক ঝলকে

  • পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে বেশ কিছু জেলায় তৃণমূল একটিও আসন পাবে না বলে বড় দাবি মোদীর।
  • দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্যে প্রথম দফার ভোটদানের রেকর্ড ভেঙে নতুন নজির গড়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
  • দুর্নীতি ও কেন্দ্রীয় বঞ্চনার অভিযোগে সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে আক্রমণ করেছেন তিনি।
  • বিজেপি এবার বাংলার বিশেষ কিছু স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ জেলাকে পাখির চোখ করে এগোচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *