বাংলার রাজনৈতিক পালাবদলে টলিপাড়ায় ভাঙনের সুর, জয়ের পর সরব জিৎ ও যশ
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/05/04/bjp-2026-05-04-21-54-06.png)
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকে রাজ্য রাজনীতিতে বইছে পরিবর্তনের হাওয়া। গত দেড় দশক ধরে টলিউডের একটি বড় অংশ শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত থাকলেও, বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে যেতেই বিনোদন জগতে শুরু হয়েছে সুর বদল। দীর্ঘদিনের নীরবতা ভেঙে অনেক তারকাই এখন নতুন রাজনৈতিক শক্তির প্রতি নিজেদের সমর্থন ও শুভেচ্ছা জাহির করছেন।
পরিবর্তনের জোয়ারে টলিউড তারকাদের প্রতিক্রিয়া
এতদিন রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে সযত্নে দূরত্ব বজায় রাখা সুপারস্টার জিৎ-এর শুভেচ্ছা বার্তা বিনোদন ও রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্য তৈরি করেছে। কোনও নির্দিষ্ট দলের প্রচারে অংশ না নিলেও, ফলাফল ঘোষণার পর তিনি বাংলার এই পরিবর্তনকে ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ বলে অভিহিত করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই নতুন অধ্যায় রাজ্যের উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথ প্রশস্ত করবে।
অন্যদিকে, অভিনেতা যশ দাশগুপ্ত প্রথম থেকেই বিজেপির সমর্থনে সরব হয়েছেন। জয়ের খবর নিশ্চিত হতেই তিনি একে ‘গণতন্ত্রের জয়’ বলে আখ্যা দেন এবং পরিবর্তনের জন্য বাংলাকে প্রস্তুত বলে দাবি করেন। অভিনেতা অঙ্কুশ হাজরাও গণতন্ত্রের ক্ষমতাকে স্বাগত জানিয়ে বাংলার মানুষের মঙ্গল কামনা করেছেন।
রাজনৈতিক সক্রিয়তার প্রভাব ও ভবিষ্যৎ
টলিউডের একটি বড় অংশের শিল্পী ও কলাকুশলী এতদিন সরাসরি রাজনীতির ময়দানে সক্রিয় ছিলেন। কেউ বিধায়ক, আবার কেউ সাংসদ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে তারকা জনপ্রতিনিধিদের কাজের মান নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ছিল। বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতার এই পালাবদল টলিউডের অভ্যন্তরীণ সমীকরণকেও আমূল বদলে দিতে পারে।
শিল্পীদের এই ‘সুর বদল’ বা নতুন সরকারকে সমর্থনের নেপথ্যে কেবল রাজনৈতিক আদর্শ নয়, বরং পেশাগত নিরাপত্তা ও পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টাও দেখছেন অনেকে। নতুন সরকার গঠনের পর বিনোদন জগতের পরিকাঠামো এবং সরকারি আনুকূল্যে কী ধরনের পরিবর্তন আসে, এখন সেটাই দেখার বিষয়। তবে আপাতদৃষ্টিতে মনে করা হচ্ছে, টলিপাড়ার দীর্ঘদিনের একচেটিয়া রাজনৈতিক আনুগত্যে বড়সড় ফাটল ধরেছে।
