বাংলার ৫০ বছরের বঞ্চনা ঘুচবে, সোমনাথের তীরে দাঁড়িয়ে হুঙ্কার মোদীর! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
সোমনাথ (গুজরাট): বাংলার রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এখন কেবল দেশের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা বিশ্ব রাজনীতির চর্চার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। গত ৫০ বছর ধরে রাজ্যে উন্নয়নের যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা ভরাট করে বাংলাকে উন্নতির শিখরে নিয়ে যেতে বিজেপি বদ্ধপরিকর। সোমবার গুজরাটের সোমনাথে দাঁড়িয়ে নাম না করে বাংলার শাসকদলকে এমনই কড়া বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর মতে, বাংলার যুবসমাজ আজ আর বিভাজনের রাজনীতি নয়, বরং নিজেদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ এবং কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে চাইছে।
প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানান, বাংলার এবারের বিধানসভা নির্বাচন আন্তর্জাতিক মহলের নজর কেড়েছে। দেশজুড়ে যে তরুণ প্রজন্ম গড়ে উঠছে, তারা কঠোর পরিশ্রম বা পুরুষার্থের মাধ্যমে নিজেদের ভাগ্যবদল করতে সক্ষম। তাই প্রাত্যহিক গালিগালাজ আর নেতিবাচক রাজনীতিকে মানুষ আজ প্রত্যাখ্যান করেছে। তাঁর কথায়, “যাঁরা কেবল বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা করেন, দেশ তাঁদের আস্তাকুঁড়ে ছুড়ে ফেলেছে।” জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে কোনো খামতি রাখা হবে না বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
ঐতিহ্য রক্ষা ও রাজনৈতিক সংকল্প
রাজনীতির পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে উঠে আসে ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রসঙ্গ। সোমনাথ মন্দিরের ১০০০ বছরের ধ্বংস ও বেদনার ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ইতিহাস মুছে ফেলা আসাম্ভব। ৭৫ বছর আগে স্বাধীনতার পর যখন রাজেন্দ্র প্রসাদ এই মন্দিরের পুনঃপ্রতিষ্ঠায় এসেছিলেন, তখন তৎকালীন রাজনীতির একাংশ তাঁকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ভারতের সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারের গুরুত্ব বুঝে তিনি পিছিয়ে আসেননি। সেই ঐতিহ্যের পুনর্জাগরণের ৭৫ বছর পূর্তিতে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী আধুনিক ভারতের সম্মান রক্ষার ওপর জোর দেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সোমনাথের এই আধ্যাত্মিক পরিবেশ থেকে বাংলার উন্নয়নের বার্তা দেওয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে বাংলার বিধানসভা নির্বাচন আর অন্যদিকে সোমনাথের ‘অমৃত মহোৎসব’—এই দুইয়ের মেলবন্ধনে দেশ এক নতুন সংকল্পের পথে পা বাড়াচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য রাজ্যে উন্নয়নের গতিরুদ্ধ হওয়ার কারণগুলোকে চিহ্নিত করার পাশাপাশি বাংলার মানুষের মনে নতুন আশার সঞ্চার করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
