বাড়ি ফেরার আনন্দ নাকি মৃত্যুর ফাঁদ, ট্রেনের কামরায় এ কী ভয়ংকর ভিড়!

এবেলা ডেস্কঃ
উৎসবের মরসুমে চরম ভোগান্তি: ট্রেনের টয়লেটে বসেই দীর্ঘ সফর যাত্রীদের, রেল পরিষেবা নিয়ে প্রশ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক: আসন্ন দীপাবলি ও ছট পুজোকে কেন্দ্র করে বাড়ি ফেরার তাড়নায় পূর্বাঞ্চল ও বিহারগামী প্রতিটি ট্রেনে দেখা দিচ্ছে চরম বিশৃঙ্খলা। সাধারণ কোচে তিল ধারণের জায়গা নেই, আর এর ফলে বাধ্য হয়ে বহু যাত্রী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনের টয়লেটের ভেতরে বসে বা দরজায় ঝুলে গন্তব্যের দিকে রওনা হচ্ছেন।
সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুর জংশনে অমৃতসর-পূর্ণিয়াগামী ‘জনসেবা এক্সপ্রেস’-এর যে দৃশ্য সামনে এসেছে, তা আতঙ্কিত করেছে সাধারণ মানুষকে। ট্রেনের জেনারেল কামরাগুলি কানায় কানায় পূর্ণ থাকায় বহু যাত্রী বগির ভেতরে ওঠার সুযোগই পাননি। বাধ্য হয়ে অনেকেই ট্রেনের দরজার হাতল ধরে প্রাণ হাতে নিয়ে যাত্রা করছেন।
যাঁরা দীর্ঘ সময় আগে থেকেও টিকিট বুক করার চেষ্টা করেও কনফার্ম টিকিট পাননি, তাঁদের ভোগান্তি চরমে। রামপুরের এক যাত্রী ক্ষোভের সুরে জানান, টিকিট না মেলায় বাধ্য হয়ে তিনি টয়লেটের মেঝেকেই নিজের যাত্রাপথের ঠিকানা বানিয়েছেন। পূর্ণিয়াগামী আরেক যাত্রী নির্মল কুমারের অভিজ্ঞতায় উঠে এসেছে ভয়াবহ এক চিত্র—গতকাল সকাল ১১টা থেকে তিনি টয়লেটের ভেতরেই আটকা পড়ে আছেন, গন্তব্যে পৌঁছানো পর্যন্ত দীর্ঘ ৩০ ঘণ্টারও বেশি সময় তাঁকে এভাবেই কাটাতে হবে।
যাত্রীদের কথায়, “উৎসব বছরে একবারই আসে, পরিবার অপেক্ষায় থাকে। তাই কষ্ট হলেও বাড়ি ফিরতেই হয়।” কিন্তু রেলের পর্যাপ্ত স্পেশাল ট্রেনের অভাব এবং দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরেও আসন না মেলায় সাধারণ মানুষের এই বিপজ্জনক সফর আবারও রেল পরিষেবা ও যাত্রী নিরাপত্তার চরম অব্যবস্থাকে সামনে এনে দাঁড় করাল। স্টেশনে ভিড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন, কিন্তু নিত্যযাত্রীদের এই প্রাণঘাতী লড়াইয়ের কোনো সুরাহা এখনও অধরা।
