বাড়ি বসে বেতন নেওয়ার দিন শেষ, ‘ফাঁকিবাজ’ শিক্ষকদের ধরতে এবার অলআউট অভিযানে রাজ্য সরকার! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যের সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনিক স্তরে কর্মসংস্কৃতি ফেরাতে এক নজিরবিহীন কড়া পদক্ষেপ নিতে চলেছে নতুন রাজ্য সরকার। পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে বহু স্কুল শিক্ষক ও সরকারি কর্মচারী মাসের পর মাস স্কুলে না গিয়েও বাড়িতে বসে মোটা অঙ্কের বেতন তুলতেন বলে অভিযোগ। এবার সেই সমস্ত ‘ফাঁকিবাজ’ শিক্ষক ও কর্মীদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু করেছে রাজ্য শিক্ষা দফতর।
শিক্ষা দফতর সূত্রে জানা গেছে, বিশেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলিতে এই ফাঁকিবাজির প্রবণতা সবচেয়ে বেশি ছিল। প্রভাব খাটিয়ে অনেক শিক্ষকই দিনের পর দিন অনুপস্থিত থেকে, মাসের শেষে একদিন স্কুলে গিয়ে হাজিরা খাতায় একসঙ্গে পুরো মাসের সই করে দিতেন। রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে স্কুল কর্তৃপক্ষ বা স্থানীয় অভিভাবকরাও এতদিন মুখ খোলার সাহস পাননি। বর্তমান সরকারের এই অভিযানে এবার শুধু হাজিরা খাতা পরীক্ষা করাই নয়, প্রয়োজনে সরাসরি অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে প্রকৃত তথ্য যাচাই করা হবে।
শোকজ ও বাধ্যতামূলক বদলির কোপ
চিহ্নিত করার পর অভিযুক্ত শিক্ষকদের প্রথমে শোকজ বা কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হবে। সন্তোষজনক উত্তর না মিললে তাঁদের বিরুদ্ধে নেওয়া হবে কঠোর আইনি ও বিভাগীয় পদক্ষেপ। এর পাশাপাশি, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী তকমা ব্যবহার করে যারা একই স্কুলে বা দফতরে নিজেদের বদলি আটকে রেখেছিলেন, তাঁদের সেই সুবিধাও এবার বন্ধ হচ্ছে।
তদন্তে উঠে এসেছে যে, গ্রামীণ এলাকার স্কুলগুলিতে যখন তীব্র শিক্ষক সংকট চলছে, তখন শহরাঞ্চলের বহু স্কুলে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত শিক্ষক বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই বৈষম্য দূর করতে শিক্ষা দফতর দ্রুত উদ্বৃত্ত শিক্ষকদের গ্রামীণ অঞ্চলের অভাবী স্কুলগুলিতে বাধ্যতামূলক বদলি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
কর্মসংস্কৃতি ফেরানোর মরিয়া চেষ্টা
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর পরিস্থিতি সামাল দিতে অনেক অনিয়মিত শিক্ষক ও কর্মী এখন নিয়মিত স্কুল বা অফিসে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে শিক্ষা দফতরের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকদের স্পষ্ট বার্তা, অতীতের ফাঁকিবাজির রেকর্ড খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তাই এখন পরিস্থিতি ‘মেকআপ’ দেওয়ার চেষ্টা করে কোনো লাভ হবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের এই কঠোর অবস্থানের ফলে রাজ্যের ভেঙে পড়া শিক্ষা ব্যবস্থা এবং সরকারি দফতরগুলির কর্মসংস্কৃতিতে বড়সড় ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে। একদিকে যেমন স্কুলগুলিতে পঠনপাঠনের পরিবেশ উন্নত হবে, অন্যদিকে গ্রামীণ স্কুলগুলির শিক্ষক ঘাটতি মিটে শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি পাবে। একই সাথে এই পদক্ষেপ অন্য সরকারি কর্মচারীদের সময়ানুবর্তী হতে বাধ্য করবে।
