বাবার ক্যানসার, তীব্র আর্থিক অনটন: পুলিশের হাত ধরে NEET-এ বাজিমাত ঝাড়গ্রামের অদম্য সাগরের! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বাবার ক্যানসারের চিকিৎসা আর সংসারের তীব্র অনটন—সব মিলিয়ে যখন পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়াই আসাম্ভব হয়ে উঠেছিল, ঠিক তখনই ঝাড়গ্রামের মেধাবী ছাত্র সাগর গোস্বামীর পাশে এসে দাঁড়ায় পুলিশ প্রশাসন। সমস্ত প্রতিকূলতাকে জয় করে সর্বভারতীয় মেডিকেল প্রবেশিকা (NEET) পরীক্ষায় দারুণ সাফল্য অর্জন করল বিনপুরের এই অদম্য তরুণ।
ছোট থেকেই অত্যন্ত মেধাবী সাগর মাধ্যমিকে ৯৬ শতাংশ নম্বর পেয়েছিলেন। কিন্তু উচ্চশিক্ষার স্বপ্নপূরণের পথেই নেমে আসে অন্ধকার—বাবার ক্যানসার ধরা পড়ার পর পরিবারের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ে। একদিকে বাবার চিকিৎসার খরচ, অন্যদিকে সংসারের টানাটানি; সাগরের চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন ক্রমশ ফিকে হতে শুরু করেছিল।
এই চরম সংকটময় মুহূর্তে সাগরের মেধা ও পারিবারিক পরিস্থিতির কথা জানতে পারে বিনপুর থানার পুলিশ। ঝাড়গ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মানব সিংলার তত্ত্বাবধানে থানার পক্ষ থেকে সাগরকে আর্থিক সাহায্যের পাশাপাশি পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য সবরকম মানসিক উৎসাহ দেওয়া হয়। পুলিশের সেই সহযোগিতাতেই তিনি দুর্গাপুরে নিট (NEET)-এর কোচিং নেওয়ার সুযোগ পান।
সম্প্রতি প্রকাশিত নিট-এর ফলাফলে দেখা যায়, সাগর সর্বভারতীয় স্তরে ২২,৬৬২ নম্বর র্যাঙ্ক করেছেন। স্বপ্নের দিকে এক ধাপ এগিয়ে যেয়ে কৃতজ্ঞতায় আপ্লুত সাগর জানান,
“পুলিশ প্রশাসনের সাহায্য না পেলে এই সাফল্য কোনোভাবেই সম্ভব হতো না। তাঁদের কাছে আমি আজীবন কৃতজ্ঞ। ছোটবেলা থেকেই আমার স্বপ্ন ছিল ডাক্তার হয়ে মানুষের সেবা করব।”
সাগরের এই কৃতিত্বে ঝাড়গ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মানব সিংলা বলেন,
“সাগর অত্যন্ত মেধাবী। এত প্রতিকূলতার মধ্যেও নিজের লক্ষ্যে স্থির থেকে সে যে সাফল্য পেয়েছে, তা সত্যি প্রশংসনীয়। তার ডাক্তার হওয়ার স্বপ্নের অংশীদার হতে পেরে আমরা আনন্দিত।”
সাগরের এই সাফল্যে এখন আনন্দ ও গর্বের হাওয়া তাঁর পরিবার ও গোটা বিনপুর এলাকায়। বাবা ও পরিবারের সবাই চান, সব বাধা পেরিয়ে সাগর যেন একজন সফল চিকিৎসক হয়ে সমাজের পাশে দাঁড়াতে পারেন।
