বারুইপুর কাণ্ড: অশান্তিতে উস্কানির অভিযোগে গ্রেফতার সিপিএম নেতা লাহেক আলি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বারুইপুর: গত ৫ জুলাই বারুইপুরের সূর্যপুরে এক নাবালিকার মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়েছিল এলাকা। সেই অশান্তিতে ইন্ধন জোগানোর অভিযোগে রবিবার রাতে গ্রেফতার করা হলো সিপিএম নেতা লাহেক আলিকে। তিনি বারুইপুর পশ্চিম কেন্দ্রের প্রাক্তন বামফ্রন্ট প্রার্থী ছিলেন।
ঘটনার প্রেক্ষাপট: সূর্যপুরে নাবালিকার মৃত্যুর পর থেকেই দফায় দফায় বিক্ষোভ, রাস্তা অবরোধ, ভাঙচুর এবং পুলিশকর্মীদের উপর হামলার ঘটনা ঘটে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল নামে এক যুবককে নাবালিকাকে খুনের সন্দেহে পিটিয়ে মারা হয়। পরবর্তীতে তদন্তে জানা যায়, ওই যুবক নির্দোষ ছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেফতার ও রাজনৈতিক জলঘোলা: অশান্তির সময় ঘটনাস্থলে লাহেক আলির উপস্থিতি এবং তাঁর বিরুদ্ধে উস্কানি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। ঘটনার এক সপ্তাহ পর পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করল। রাজ্য রাজনীতির অন্দরে বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর। সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তীর দাবি, সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে লাহেককে ফাঁসানো হয়েছে। তাঁর কথায়, “ঘটনার পর থেকেই লাহেকের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। গণপিটুনির ঘটনার পর তিনি পরিস্থিতি সামাল দিতেই সেখানে গিয়েছিলেন।”
অন্যদিকে, রাজ্যের কড়া বার্তার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশি তৎপরতা বেড়েছে। বারুইপুরের এই অশান্তির ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ৩৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
লাহেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ: সূত্রের খবর, সোমবার ধৃত নেতাকে বারুইপুর মহকুমা আদালতে হাজির করানো হবে। তাঁর বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা, দাঙ্গা, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, সরকারি কাজে বাধা, জনসম্পত্তি নষ্ট এবং প্ররোচনার মতো একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। রেলওয়ে আইনের অধীনেও তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
