“বার্ধক্য ভাতা চাই না, জীবন ধন্য!” শুভেন্দুর কনভয় থামিয়ে আশীর্বাদ বৃদ্ধা স্বপ্নার – এবেলা

“বার্ধক্য ভাতা চাই না, জীবন ধন্য!” শুভেন্দুর কনভয় থামিয়ে আশীর্বাদ বৃদ্ধা স্বপ্নার – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

মধ্যমগ্রামের মহিলা কো-অপারেটিভের ৩৫তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সোমবার বিকেলে উপস্থিত হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অনুষ্ঠানস্থলের বাইরে তখন উপচে পড়া ভিড়। সেই ভিড়ের মাঝেই এক কোণে ইতস্তত হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন বৃদ্ধা স্বপ্না দাস।

মুখ্যমন্ত্রীর গাড়ি পৌঁছানো মাত্রই ভিড় ঠেলে এগোতে চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু নিরাপত্তার কড়াকড়ি আর মানুষের ঠ্যালাঠেলিতে সফল হতে না পেরে শেষমেশ গলার সমস্ত জোর দিয়ে ডেকে ওঠেন, ‘বাবা, একটু দাঁড়াও। একটু দাঁড়াও বাবা।’ হইচইয়ের মাঝেও বৃদ্ধার সেই আকুল ডাক কানে পৌঁছায় মুখ্যমন্ত্রীর। তিনি তৎক্ষণাৎ কনভয় থামিয়ে নিরাপত্তারক্ষীদের নির্দেশ দেন বৃদ্ধাকে তাঁর কাছে নিয়ে আসতে।

নিরাপত্তারক্ষীরা স্বপ্নাদেবীকে সোজা কো-অপারেটিভের ভেতরে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে নিয়ে যান। সেখানে দু’জনের মধ্যে বেশ কিছুক্ষণ কথা হয়। বেরিয়ে এসে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বৃদ্ধা বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীকে প্রাণ ভরে আশীর্বাদ করেছি। আমার জীবন ধন্য।” বার্ধক্য ভাতার আবেদন করেও এখনো না পাওয়ার বিষয়টি তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে জানান এবং মুখ্যমন্ত্রী তা নোট করে নেন বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

তবে ভাতা পাওয়া নিয়ে তাঁর কোনো আক্ষেপ নেই। স্বপ্নাদেবীর স্পষ্ট কথা, “আমার অন্নপূর্ণা যোজনা কিংবা বার্ধক্য ভাতা কিচ্ছু চাই না। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে পেরেছি, এতেই আমি ধন্য।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবেন।

সেখানে উপস্থিত আরও অনেক মহিলা বিভিন্ন সরকারি ভাতা না পাওয়া এবং ‘সির’ (SIR) সংক্রান্ত নানা অভিযোগ নিয়ে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন। কিন্তু বৃদ্ধা স্বপ্নার মুখে মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি এই ভালোবাসার কথা শুনে মুহূর্তের মধ্যেই ক্ষোভের পরিবেশ হালকা হয়ে যায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *