বাসরের রাতে কনের আজব আবদারে হতভম্ব বর!

আগ্রায় বিয়ের বাসর ঘরে ৯০ লাখ টাকার ‘ডিমান্ড’, নেপথ্যে কি বড় কোনো ষড়যন্ত্র?
উত্তরপ্রদেশের আগ্রায় একটি বিবাহ পরবর্তী ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। সাধারণত বিয়ের পিঁড়িতে বসার পর দাম্পত্য জীবনের শুরুর মুহূর্তটি আনন্দদায়ক হওয়ার কথা থাকলেও, আগ্রার জগদীশপুরা এলাকায় ঘটেছে ঠিক তার বিপরীত ঘটনা। বিয়ের বাসর ঘরে কনের আকস্মিক আর্থিক দাবিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে চরম বিতর্ক এবং আইনি জটিলতা।
বিয়ের রাতেই ৯০ লাখ টাকার দাবি
ঘটনার সূত্রপাত গত ২৯ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে। ওইদিন সিকান্দ্রার বাসিন্দা ড. মুসকান সিংয়ের ভাই গৌরবের সঙ্গে হাথরসের বাসিন্দা কল্পনার বিয়ে হয়। বিয়ের সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে যখন বাসর ঘরে প্রবেশের সময় হয়, তখনই কনে কল্পনা তার স্বামীর সামনে এক অস্বাভাবিক শর্ত জুড়ে দেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ৯০ লাখ টাকা দাবি পূরণ না করলে তিনি এই সম্পর্কের পরিণতি নিয়ে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাবেন না। এই আকস্মিক দাবিতে হতবাক হয়ে পড়েন বরের পরিবার। অভিযোগ রয়েছে, দাবি পূরণ না হওয়ায় কনে তার ব্যবহৃত সমস্ত গয়না নিয়ে বাপের বাড়ি চলে যান।
হামলা ও জীবননাশের হুমকির অভিযোগ
ঘটনাটি কেবল আর্থিক বিবাদে সীমাবদ্ধ থাকেনি। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কনের বাড়ির লোকজন গত কয়েক মাস ধরে বরের পরিবারের ওপর চাপ সৃষ্টি শুরু করে। এক পর্যায়ে কনের বাড়ির লোকজন গৌরবের বাড়িতে চড়াও হয় এবং বাড়ির বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে দেয়। শুধু গালিগালাজ নয়, পিএনজি গ্যাস লাইন কেটে দিয়ে পুরো পরিবারকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে ওই পরিবারকে উদ্ধার করা হয়।
সুপরিকল্পিত প্রতারণার ফাঁদ?
তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে বিস্ফোরক সব তথ্য। গৌরবের বোনের দাবি অনুযায়ী, এই পুরো বিষয়টি একটি সুপরিকল্পিত প্রতারণার অংশ। বাসর ঘরে ৯০ লাখ টাকা হাতানোর বিষয়টি কোনো বিবাদ নয়, বরং আগে থেকেই ছক কষা একটি ষড়যন্ত্র। বিয়ের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পরিচিত মুন্না মাস্টার এই ষড়যন্ত্রের কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে কনের পক্ষ থেকে বারবার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট পাঠিয়ে টাকা পাঠানোর জন্য চাপ প্রয়োগ করা হতো বলেও জানা গেছে।
আইনি লড়াইয়ের পথে ভুক্তভোগী পরিবার
প্রাথমিকভাবে বিষয়টি নিয়ে পুলিশ কমিশনারের কাছে অভিযোগ জানানো হলেও কোনো সুরাহা মেলেনি বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। শেষ পর্যন্ত ন্যায়বিচার পেতে পরিবারটি আদালতের শরণাপন্ন হয়েছে। আদালত মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। স্থানীয় পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনাটি সামাজিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও নতুন এক অস্বস্তির জন্ম দিয়েছে।
এক ঝলকে
- বিয়ের তারিখ: ২৯ এপ্রিল ২০২৫
- ঘটনার স্থান: আগ্রার জগদীশপুরা থানা এলাকা
- কনের বিতর্কিত দাবি: সুহাগরাতের আগে ৯০ লাখ টাকা
- মূল অভিযোগ: টাকা না পেয়ে অলঙ্কার নিয়ে পালানো এবং পিএনজি গ্যাস লাইন কেটে হত্যার হুমকি
- বর্তমান অবস্থা: ভুক্তভোগী পরিবার আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে এবং পুলিশি তদন্ত চলছে
- ষড়যন্ত্রের তথ্য: বিয়ের মধ্যস্থতাকারী মুন্না মাস্টারের মাধ্যমে প্রতারণার যোগসূত্র পাওয়ার দাবি ভুক্তভোগী পরিবারের
