বাস্তু সংকটে জোড়াফুল! মঙ্গলবার রাতেই তড়িঘড়ি খালি হলো মেট্রোপলিটনের অস্থায়ী তৃণমূল ভবন – এবেলা

বাস্তু সংকটে জোড়াফুল! মঙ্গলবার রাতেই তড়িঘড়ি খালি হলো মেট্রোপলিটনের অস্থায়ী তৃণমূল ভবন – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

রাজ্যে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলাতেই এবার বড়সড় ধাক্কা খেল রাজ্যের শাসকদল। দীর্ঘদিনের দূরত্ব ও টানাপোড়েনের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে মঙ্গলবার রাতে খালি করে দেওয়া হলো বাইপাস ধাবার পিছনের মেট্রোপলিটন এলাকার অস্থায়ী ‘তৃণমূল ভবন’। বাড়িটির মালিক তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এককালের অত্যন্ত আস্থাভাজন মনোতোষ সাহা ওরফে মন্টু সাহার চরম হুঁশিয়ারির পর আর ঝুঁকি নেয়নি দল। মে মাসেই বাড়ি খালি করার জন্য দেওয়া দুই মাসের সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই তড়িঘড়ি বহুতলটির দুটি ফ্লোর খালি করে দেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে খবর। বাকি অংশ থেকেও দ্রুত সমস্ত জিনিসপত্র সরানোর কাজ চলছে।

তপসিয়া থেকে মেট্রোপলিটন

ঘটনার সূত্রপাত ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তপসিয়ার পুরনো দলীয় কার্যালয়টি ভেঙে সম্পূর্ণ আধুনিক ও কর্পোরেট কায়দায় নতুন ‘তৃণমূল ভবন’ তৈরির সিদ্ধান্ত নেন। সেই কারণে দলের মূল কাজকর্ম সাময়িকভাবে পরিচালনার জন্য বাইপাস ধাবার পিছনের এই বহুতলটিকে বেছে নেওয়া হয়েছিল। বাড়িটির মালিক মন্টু সাহা একটা সময় দক্ষিণ কলকাতায় ছোট ডেকোরেটিং ব্যবসা করতেন। পরবর্তীতে তৃণমূল জমানায় তাঁর ব্যবসায়িক শ্রীবৃদ্ধি ঘটে উল্কাগতিতে, যা নিয়ে বিরোধীরা বরাবরই শাসকদলের মদতের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন।

যে কারণে এই দূরত্ব

সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং কেন্দ্রীয় এজেন্সির লাগাতার অভিযানের জেরে শাসকদলের একাধিক শীর্ষ নেতা শ্রীঘরে গিয়েছেন। কাউন্সিলর থেকে শুরু করে স্বয়ং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয়েছে। এই টালমাটাল পরিস্থিতির মাঝেই দল তথা তৃণমূল সুপ্রিমোর সঙ্গে দূরত্ব বাড়াতে শুরু করেন মন্টু সাহা। একদা দলের সমস্ত কর্মসূচিতে ডেকোরেটিংয়ের সরঞ্জাম সরবরাহকারী মন্টুবাবু হঠাৎ করেই তা বন্ধ করে দেন এবং মে মাসে বাড়ি খালি করার আইনি নোটিশ ধরান। এমনকি নির্দিষ্ট সময়ে বাড়ি খালি না হলে থানায় জিডি করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন তিনি।

সংকটে দলীয় কাজকর্ম

অস্থায়ী কার্যালয় হাতছাড়া হওয়ায় তীব্র ‘বাস্তু সংকটে’ পড়ল শাসকদল। একদিকে তপসিয়ার মূল ভবনের পুনর্নির্মাণের কাজ অত্যন্ত ধীরগতিতে চলছে, অন্যদিকে অস্থায়ী অফিসটিও ছাড়তে হলো। ফলে লোকসভা নির্বাচন পরবর্তী সময়ে দাঁড়িয়ে দলের সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক কাজকর্ম পরিচালনার ক্ষেত্রে বড়সড় পরিকাঠামোগত সমস্যায় পড়তে চলেছে নেতৃত্ব। এই আকস্মিক উচ্ছেদের জেরে আপাতত জোড়া চাপে দিশেহারা জোড়াফুল শিবির। তবে এই বিপুল উত্থান এবং বর্তমানের এই নাটকীয় দলবদল নিয়ে আপাতত সম্পূর্ণ মৌনব্রত অবলম্বন করেছেন বাড়ির মালিক মনোতোষ সাহা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *