বিগত সরকারের দুর্নীতির পর্দাফাঁস! রাজ্যের সব দপ্তরের ‘শ্বেতপত্র’ প্রকাশের ঐতিহাসিক ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতা: রাজ্যের বর্তমান আর্থিক সংকটের কারণ ও বিগত সরকারের আমলে হওয়া ব্যাপক দুর্নীতির পর্দাফাঁস করতে বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। বিধানসভার বাদল অধিবেশনে বাজেট বক্তৃতার জবাবি ভাষণে রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত ঘোষণা করলেন যে, বিগত সরকারের আমলের সমস্ত দপ্তরের কাজের ওপর একটি পূর্ণাঙ্গ ‘শ্বেতপত্র’ (White Paper) প্রকাশ করা হবে। পাশাপাশি, বিভিন্ন দপ্তরের জন্য আসা অডিট রিপোর্টও জনসমক্ষে আনা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
কেন এই শ্বেতপত্র?
রাজ্যের মাথার ওপর ঋণের বোঝা কেন এত ভারী? কোন দপ্তরের গাফিলতি ও দুর্নীতির জন্য কোষাগারের এই দশা? এই সব প্রশ্নের উত্তর সাধারণ মানুষের সামনে আনতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্বপন দাশগুপ্ত স্পষ্ট বলেন, “যা হয়েছে তা ভুলে যাওয়া সম্ভব নয়। প্রতিটি দপ্তরে কী ধরনের দুর্নীতি হয়েছে এবং কোন কোন অনিয়মের জেরে ঋণের পাহাড় জমেছে, অর্থনীতি বিভাগ তার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট প্রকাশ করবে।”
বিরোধীদের তোলা দুর্নীতির নানা উদাহরণ:
অর্থমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বিরোধীদের অভিযোগের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি জানান:
- মালদা এয়ারপোর্ট ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক: প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নিয়ম বহির্ভূতভাবে জমি পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ।
- ওয়েটল্যান্ড দুর্নীতি: কলকাতার জলাভূমি রক্ষা আইন অমান্য করে বড় ধরনের অনিয়মের কথা উঠে এসেছে কুণাল ঘোষের বয়ানে।
- সাইবার ক্রাইম ও ভুয়ো শংসাপত্র: জাভেদ খান ও নওশাদ সিদ্দিকির তোলা বিভিন্ন সাইবার অপরাধ ও ভুয়ো এসসি/এসটি সার্টিফিকেট দেওয়ার মতো বিষয়গুলোকেও তদন্তের আওতায় আনা হবে।
আয়ের সংস্থান নিয়ে কী বললেন অর্থমন্ত্রী?
বাজেটে উন্নয়নমূলক প্রকল্পের বরাদ্দ বাড়লেও আয়ের উৎস নিয়ে বিরোধীদের তোলা প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী আশার আলো দেখিয়েছেন। তিনি বলেন:
- কেন্দ্রীয় প্রকল্প: কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলি সঠিক উপায়ে রাজ্যে রূপায়ন করায় প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার অর্থ সাহায্য পাওয়া সম্ভব হয়েছে। এতদিন রাজ্য এই প্রকল্পগুলোর সুবিধা নিতে পারেনি, এখন তা কাজে লাগানো হচ্ছে।
- রাজস্ব বৃদ্ধি: কয়লা, বালি ও পাথর খাদানগুলো থেকে আগের তুলনায় অনেক বেশি রাজস্ব আদায় হবে, যা রাজ্যের অর্থনৈতিক ভিত্তিকে মজবুত করবে।
সব মিলিয়ে, বিগত সরকারের ‘দুর্নীতির ইতিহাস’ শ্বেতপত্রের মাধ্যমে প্রকাশ্যে এনে রাজ্যে স্বচ্ছতা ফেরানোই এখন বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
