বিচ্ছেদের বদলে চাইলেন গর্ভধারণের অধিকার! কাঠগড়ায় স্ত্রীর অদ্ভুত আবদারে স্তম্ভিত আদালত – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পারিবারিক কলহ যখন চরমে পৌঁছায়, তখন আইনি বিচ্ছেদই হয়ে ওঠে শেষ সমাধান। কিন্তু সম্প্রতি মহারাষ্ট্রের নান্দেদ ফ্যামিলি কোর্টে বিবাহবিচ্ছেদের এক মামলায় এমন এক নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে যা শুনে উপস্থিত বিচারপতি থেকে শুরু করে আইনজীবী—সবাই স্তব্ধ হয়ে যান। পেশায় চিকিৎসক ওই দম্পতি বিচ্ছেদের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকলেও স্ত্রী তাঁর স্বামীর কাছে কোনো খোরপোশ বা স্থাবর সম্পত্তি নয়, বরং চেয়েছেন মাতৃত্বের অধিকার।
এক অনন্য আইনি অনুমতি
মামলা চলাকালীন ওই নারী আদালতের কাছে আবেদন করেন যে, তিনি বিচ্ছেদের আগে তাঁর স্বামীর মাধ্যমেই দ্বিতীয়বার মা হতে চান। এই দম্পতির আগে থেকেই একটি সন্তান রয়েছে। স্ত্রীর দাবি, তিনি তাঁর প্রথম সন্তানকে একটি ভাই বা বোনের সান্নিধ্য দিতে চান যাতে ভবিষ্যতে সে একা হয়ে না পড়ে। আদালত উভয়পক্ষের যুক্তি এবং আইনি দিক বিবেচনা করে শেষ পর্যন্ত ওই নারীর ইচ্ছা পূরণের পক্ষে রায় দেয়। তবে এক্ষেত্রে কোনো শারীরিক সম্পর্কের পরিবর্তে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান বা আইভিএফ (IVF) পদ্ধতির সাহায্য নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চিকিৎসা পদ্ধতি ও ভবিষ্যৎ দায়িত্ব
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, স্বামী তাঁর শুক্রাণু প্রদানে সম্মত হয়েছেন, তবে এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ার ব্যয়ভার ওই নারীকেই বহন করতে হবে। যেহেতু তিনি নিজেও একজন চিকিৎসক, তাই দ্বিতীয় সন্তানের ভরণপোষণ ও লালন-পালনের সমস্ত দায়িত্ব তিনি একাই পালন করবেন বলে আদালতকে নিশ্চিত করেছেন। এই বিশেষ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই তাঁদের আইনি বিচ্ছেদ কার্যকর হবে। মানবিক ও মনস্তাত্ত্বিক দিক বিবেচনা করে নেওয়া এই সিদ্ধান্তটি বর্তমানে আইন অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এক ঝলকে
- মহারাষ্ট্রের নান্দেদে চিকিৎসক দম্পতির বিবাহবিচ্ছেদের মামলায় স্ত্রী স্বামীর কাছে দ্বিতীয়বার গর্ভবতী হওয়ার আবদার জানান।
- প্রথম সন্তানের একাকীত্ব দূর করতে একটি ভাই বা বোনের সংস্থান করাই ছিল ওই নারীর মূল লক্ষ্য।
- আদালত আইভিএফ পদ্ধতির মাধ্যমে এই গর্ভধারণের অনুমতি দিয়েছে এবং এর যাবতীয় খরচ ওই নারী নিজেই বহন করবেন।
- মাতৃত্বের এই অধিকার নিশ্চিত হওয়ার পরেই তাঁদের বিচ্ছেদ প্রক্রিয়া আইনত সম্পন্ন হবে।
