বিজেপির প্রশংসায় পঞ্চমুখ জিৎ, জল্পনা বাড়িয়ে সরাসরি রাজনীতির ডাক ভক্তদের!

সরাসরি কোনো রাজনৈতিক শিবিরে নাম না লেখালেও টলিউড সুপারস্টার জিৎ বুঝিয়ে দিলেন বাংলার নতুন শাসক দল বিজেপির প্রতি তাঁর সমর্থন ও আস্থা। শনিবার বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে জিতের উপস্থিতি ছিল অন্যতম বড় চমক। তবে সেই চমক আরও কয়েক গুণ বেড়ে যায় রবিবার, যখন সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিনেতা বিজেপি এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভূয়সী প্রশংসা করেন। তাঁর এই পোস্ট ঘিরেই এখন নেটপাড়ায় শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা।
মোদী ও নবনির্বাচিত সরকারের প্রশংসা
নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে জিৎ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বের প্রশংসা করার পাশাপাশি নতুন রাজ্য সরকারের ওপর তাঁর বিশ্বাসের কথা জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বাংলার নতুন অধ্যায়ের সূচনায় তিনি আশাবাদী। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জিতের মতো একজন প্রভাবশালী তারকার এমন সরাসরি প্রশংসা বিজেপির জন্য বাড়তি মাইলেজ তৈরি করেছে।
পূর্বতন সরকারের কড়া সমালোচনা
কেবল প্রশংসা নয়, জিতের কলমে উঠে এসেছে বিগত সরকারগুলোর কাজের সমালোচনাও। তিনি ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, পূর্বতন শাসনকালে বাংলার যতটা উন্নয়ন হওয়া উচিত ছিল, তা থমকে ছিল। তাঁর এই কড়া অবস্থান স্বাভাবিকভাবেই আগের শাসক দলের অনুগামীদের মধ্যে বিতর্ক তৈরি করেছে, যদিও জিতের ভক্তরা তাঁর এই স্পষ্টবাদিতাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।
‘সরাসরি বিজেপি করছেন না কেন?’
জিতের এই রাজনৈতিক ঝোঁক দেখে তাঁর অনুগামীদের মধ্যে উদ্দীপনা তুঙ্গে। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই তাঁকে সরাসরি সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। জনৈক নেটিজেন লিখেছেন, “আপনি যখন আদর্শগতভাবে সমর্থন করছেন, তখন সরাসরি বিজেপি জয়েন করছেন না কেন?” ভক্তদের এই প্রশ্ন এখন টলিউড ও রাজনৈতিক মহলের আনাচে-কানাচে ঘুরপাক খাচ্ছে।
ভবিষ্যৎ ও ফিল্মি কেরিয়ারের সমীকরণ
টলিউডের প্রথম সারির এই নায়কের রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের ফলে ইন্ডাস্ট্রির সমীকরণও বদলাতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। শুভেন্দু অধিকারীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে তাঁর উপস্থিতি এবং পরবর্তী সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট প্রমাণ করে যে, জিৎ আর নিজের রাজনৈতিক মতাদর্শ লুকিয়ে রাখতে ইচ্ছুক নন। এখন দেখার বিষয়, ভক্তদের ডাকে সাড়া দিয়ে রুপোলি পর্দার এই নায়ক সত্যি সত্যিই রাজনীতির ময়দানে কোমর বেঁধে নামেন কি না। মূলত মোদী ও শুভেন্দুর প্রতি তাঁর এই প্রকাশ্য সমর্থনই এখন বাংলার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
