বিজেপির সদস্যপদই নাগরিকত্বের প্রমাণ! কেন্দ্রকে তোপ ওয়েইসির – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
সম্প্রতি ভারতের বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে যে, পাসপোর্ট কেবল বিদেশ ভ্রমণের একটি বৈধ নথি, এটি কোনওভাবেই নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়। এই ঘোষণার পর থেকেই দেশজুড়ে প্রবল বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষ যখন নিজেদের নাগরিকত্ব প্রমাণের বৈধ নথি নিয়ে দিশেহারা, ঠিক সেই সময়েই কেন্দ্রীয় সরকারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন এআইএমআইএম প্রধান ও হায়দরাবাদের সাংসদ আসাদউদ্দিন ওয়েইসি। তিনি ব্যঙ্গের সুরে দাবি করেছেন, অদূর ভবিষ্যতে হয়তো একমাত্র বিজেপির সদস্যপদ থাকলেই ভারতের নাগরিকত্ব প্রমাণ করা সম্ভব হবে।
পাসপোর্ট ও নাগরিকত্ব আইনের সংঘাত
পাসপোর্ট ইস্যু করার বর্তমান নিয়মের কথা উল্লেখ করে ওয়েইসি সরকারের যুক্তির বিরোধিতা করেছেন। তাঁর মতে, পুঙ্খানুপুঙ্খ পুলিশ ভেরিফিকেশনের পরেই কেবল ভারতীয় নাগরিকদের পাসপোর্ট দেওয়া হয়, তাই পাসপোর্টকে নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে অস্বীকার করা অযৌক্তিক। অন্যদিকে বিদেশমন্ত্রকের দাবি, পাসপোর্ট প্রদান করা হয় ‘পাসপোর্ট আইন’-এর অধীনে এবং সরকার চাইলে বিশেষ পরিস্থিতিতে বিদেশি নাগরিককেও তা দিতে পারে। কিন্তু নাগরিকত্ব নির্ধারিত হয় ‘সিটিজেনশিপ আইন’-এর দ্বারা। ভারতের নাগরিকত্ব আইন অনুযায়ী, ১৯৫০ থেকে ১৯৮৭ সালের মধ্যে এদেশে জন্মগ্রহণকারীরা জন্মসূত্রে ভারতীয় এবং পরবর্তী সময়ে বাবা-মায়ের নাগরিকত্বের ওপর ভিত্তি করে এই নিয়ম নির্দিষ্ট করা হয়েছে।
দেশজুড়ে বিভ্রান্তি ও সম্ভাব্য প্রভাব
বিদেশমন্ত্রকের এই নতুন বার্তার পর আমজনতার মনে গভীর বিভ্রান্তি ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। ওয়েইসি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, জন্মসূত্রে ভারতীয়দের কাছে আলাদা করে নাগরিকত্বের কোনও শংসাপত্র থাকে না। ফলে নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য ঠিক কোন নথিটি চূড়ান্ত, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রও এই সিদ্ধান্তে সরব হয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের এই অবস্থান বিরোধী দলগুলির হাতে নতুন অস্ত্র তুলে দিয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে নিজেদের পরিচয়পত্র নিয়ে আস্থার অভাব ও ভীতি দেখা দিতে পারে, অন্যদিকে জাতীয় রাজনীতিতে নাগরিকত্ব ইস্যুটিকে কেন্দ্র করে ফের বড়সড় মেরুকরণ শুরু হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
