‘বিদেশি বিনিয়োগ আসবে’! ত্রিস্তরীয় কর্মসংস্থানের মহাপরিকল্পনা শুভেন্দুর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ডানকুনি: দীর্ঘদিনের শিল্পখরা কাটিয়ে পশ্চিমবঙ্গে উন্নয়নের জোয়ার ফেরাতে মরিয়া রাজ্য সরকার। শনিবার ডানকুনির একটি হোসিয়ারি সংস্থার কারখানা সম্প্রসারণ প্রকল্পের শিলান্যাসে এসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যে বিদেশি বিনিয়োগ (FDI) আনার জোরালো প্রতিশ্রুতি দিলেন। অনুষ্ঠানে রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সুরেই সুর মিলিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বাংলাকে ফের দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলাই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
শিল্পের পথে বাধা দূরীকরণের অঙ্গীকার: মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, আগের বাম আমল ও পরবর্তী দীর্ঘ ১৫ বছরের শিল্পখরা কাটিয়ে উঠতে তাঁর সরকার বদ্ধপরিকর। তিনি বলেন, “রাজ্যে তোলাবাজি ও কাটমানির সংস্কৃতি থেকে আমরা অনেকটা বেরিয়ে এসেছি। শিল্পের পরিবেশ উন্নত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা আমাদের অগ্রাধিকার।” বিনিয়োগকারীদের হয়রানি কমাতে নতুন জমি নীতি প্রণয়ন এবং ১০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ‘সিঙ্গেল উইন্ডো’ অনুমোদনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। শিল্প প্রসারের জন্য রাজ্য সরকার ইতিমধ্যে ৫ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বাজেট বরাদ্দ করেছে।
ত্রিস্তরীয় কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা: রাজ্যের কর্মসংস্থান সংকট সমাধানে শুভেন্দু অধিকারী একটি বিশেষ ‘ত্রিস্তরীয়’ কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। এর আওতায় রয়েছে:
- বেসরকারি বিনিয়োগ: বড় শিল্প স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি।
- উদ্যোগপতি তৈরি: রাজ্যের নতুন ব্যবসায়ীদের জন্য কম সুদে ঋণের ব্যবস্থা।
- সরকারি সহায়তা: সরকারি চাকরির পাশাপাশি স্বনির্ভর হওয়ার সুযোগ বৃদ্ধি।
শমীক ভট্টাচার্যের আশাবাদ ও বৈশ্বিক বিনিয়োগ: অনুষ্ঠানে শমীক ভট্টাচার্য দাবি করেন, বর্তমানে রাজ্যে বৈদেশিক বিনিয়োগ মাত্র ০.৬ শতাংশ হলেও তা দ্রুত বৃদ্ধি পাবে। তিনি বলেন, “টাটা-বাটা থেকে শুরু করে রিলায়েন্স, আদানি, এমনকী ইসরায়েল, মিউনিখ ও সিলিকন ভ্যালির শিল্পপতিরাও পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগের আগ্রহ দেখাচ্ছেন।”
রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়ও জানান, রাজ্যে শিল্পের জোয়ার ফেরাতে সরকার তৎপর। সম্প্রতি জাজল সংস্থা মিৎসুবিশির সঙ্গে সেমিকন্ডাক্টর ইউনিট গড়ার বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। অতীতে রাজ্য ছেড়ে যাওয়া শিল্পপতিদেরও প্রয়োজনে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে শিল্পমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন।
সব মিলিয়ে, ঋণের বোঝা মাথায় নিয়েও শিল্পায়নের মাধ্যমে রাজস্ব বৃদ্ধি এবং রাজ্যের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই এখন এগোচ্ছে বর্তমান সরকার।
