বিধাননগর কলেজে মাঝরাতে রণক্ষেত্র: স্ট্রংরুমের পাহারায় তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষ, নামল বিশাল বাহিনী

বিধাননগর কলেজে মাঝরাতে রণক্ষেত্র: স্ট্রংরুমের পাহারায় তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষ, নামল বিশাল বাহিনী

ভোট গণনার ঠিক ২৪ ঘণ্টা আগে বিধাননগর কলেজের স্ট্রংরুম চত্বরকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়াল শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে। শনিবার গভীর রাতে ইভিএম পাহারা দেওয়া এবং ক্যাম্প অফিস তৈরিকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ বাঁধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর পাশাপাশি নামাতে হয় বিশাল র‌্যাফ (RAF) বাহিনী।

সংঘাতের নেপথ্যে ক্যাম্প ও পতাকা বিতর্ক

বিধাননগর কলেজে তিনটি বিধানসভা কেন্দ্রের ইভিএম রাখা হয়েছে। গণনার আগে নজরদারি জোরদার করতে স্ট্রংরুমের বাইরে উভয় পক্ষই অস্থায়ী ক্যাম্প অফিস বা তাঁবু (Tent) তৈরি করেছিল।

  • বিজেপির অভিযোগ: তাদের তৈরি করা ক্যাম্পে তৃণমূল কর্মীরা জোর করে দলীয় পতাকা লাগিয়ে দেয়। প্রতিবাদ করতে গেলে রাজারহাট-নিউটাউনের বিজেপি প্রার্থী পীযূষ কানোরিয়ার সঙ্গে তৃণমূল কর্মীদের হাতাহাতি শুরু হয়।
  • তৃণমূলের দাবি: কেন্দ্রীয় বাহিনী কোনো প্ররোচনা ছাড়াই তাদের কর্মীদের ওপর লাঠিচার্জ করেছে।

নিরাপত্তা বলয়ে মুড়ে ফেলা হলো গণনাকেন্দ্র

উত্তপ্ত ভিড় ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মাইকিং শুরু করে এবং ব্যারিকেড দিয়ে দু’পক্ষকে আলাদা করে দেয়। এই ঘটনার পর রবিবার সকাল থেকে বিধাননগর কলেজ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। স্ট্রংরুমের ১০০ মিটারের মধ্যে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। দু’পক্ষই এই মারধরের ঘটনায় একে অপরের বিরুদ্ধে কমিশনে অভিযোগ দায়ের করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

বিজয় মিছিলে নিষেধাজ্ঞা ও ‘নো-ফ্লাই জোন’

শুধু বিধাননগর নয়, উত্তাপ ছড়িয়েছে জেলাগুলোতেও:

  • পূর্ব মেদিনীপুর: প্রশাসনের তরফে চারটি গণনা কেন্দ্রকে ‘নো-ফ্লাই জোন’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ওই এলাকায় বাজি ফাটানো এবং বিজয় মিছিল বের করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
  • মালদা: কোনো প্রকার বিবাদ এড়াতে জেলাশাসক সর্বদলীয় বৈঠক করেছেন এবং প্রার্থীদের গণনা কেন্দ্র পরিদর্শন করিয়েছেন। সোমবার মালদা কলেজ ও পলিটেকনিক কলেজে ১২টি আসনের গণনা হবে।

সোমবার সকাল ৮টা থেকে রাজ্যের ২৯৩টি আসনে ভোট গণনা শুরু হতে চলেছে। তার আগে এই ‘স্ট্রংরুম সংঘাত’ প্রশাসনের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। ৪ মে-র ফলাফল যাই হোক না কেন, গণনাকেন্দ্রের বাইরে টানটান উত্তেজনা বজায় থাকার সম্ভাবনা প্রবল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *