বিধানসভায় আচমকা লিয়েন্ডার পেজ, রাজ্যসভার টিকিট নাকি অলিম্পিক মিশনের বড় দায়িত্ব! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বঙ্গ রাজনীতির অলিন্দে হঠাৎ একঝলক টেনিসের মহাতারকা। রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিয়ে আচমকা বিধানসভায় হাজির হলেন কিংবদন্তি টেনিস তারকা লিয়েন্ডার পেজ। মঙ্গলবার তাঁর এই ঝটিকা সফর এবং বিধায়কদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠককে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই তীব্র রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। বিধানসভায় পৌঁছালে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান পরিষদীয় মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ।
রাজ্যসভার টিকিট ও নতুন সমীকরণ
নির্বাচনের ঠিক আগে ধুমধাম করে বিজেপিতে যোগ দিলেও লিয়েন্ডারকে ভোটের ময়দানে প্রার্থী করা হয়নি। তবে নির্বাচনে বিজেপির অভাবনীয় সাফল্যের পর তাঁর এই আচমকা আগমন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সম্প্রতি রাজ্যের তিনটি রাজ্যসভা আসন শূন্য হয়েছে। বর্তমান বিধানসভার পাটিগণিত অনুযায়ী, বিক্ষুব্ধ তৃণমূল বিধায়কদের সমর্থন জোগাড় করতে পারলে এই আসনগুলিতে নিজেদের প্রার্থী জেতানোর সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বিজেপি। আর ঠিক যেদিন বিধানসভায় বিজেপি ও বিক্ষুব্ধ শিবিরের নেতারা উপস্থিত ছিলেন, সেদিনই লিয়েন্ডারের সেখানে হাজির হওয়া তাঁর রাজ্যসভায় যাওয়ার জল্পনাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
মিশন অলিম্পিকের গুরুদায়িত্ব
লিয়েন্ডার পেজের এই সফরের নেপথ্যে কেবল সংসদীয় রাজনীতি নয়, ক্রীড়া প্রশাসনের এক বড় সম্ভাবনার কথাও উঠে আসছে। ২০৩৬ সালের অলিম্পিক গেমস আয়োজনের জন্য ভারত সরকার সর্বাত্মক প্রস্তুতি শুরু করেছে। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে গঠিত হয়েছে ‘মিশন অলিম্পিক ২০৩৬’, যার মূল উদ্দেশ্য দশ বছর পর অলিম্পিক থেকে অন্তত ১০০টি পদক নিশ্চিত করা। আন্তর্জাতিক মঞ্চে লিয়েন্ডারের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও সাফল্যকে কাজে লাগাতে এই বিশেষ মিশনের শীর্ষ পদে তাঁকে বসানো হতে পারে বলেও একটি মহল মনে করছে।
বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর এখনও পর্যন্ত কেন্দ্রীয় স্তরে বড় কোনও পদ পাননি এই টেনিস তারকা। ফলে তাঁকে রাজ্যসভায় পাঠানো হোক বা ক্রীড়া প্রশাসনের শীর্ষ দায়িত্বে আনা হোক—দলের পক্ষ থেকে এবার যে এই সর্বভারতীয় মুখকে বড় কোনো ভূমিকায় ব্যবহার করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তা লিয়েন্ডারের এই বিধানসভা সফর থেকেই স্পষ্ট।
