বিনাকারণে ৩ মাস জেল খাটালেন কেন? যোগী সরকারকে কড়া নির্দেশ হাইকোর্টের, দিতে হবে ১০ লাখ টাকা জরিমানা!

ইলাহাবাদ হাই কোর্টের লখনউ বেঞ্চ সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশ সরকারের ওপর ১০ লাখ টাকার বিশাল জরিমানা আরোপ করে এক নজিরবিহীন রায় দিয়েছে। যথাযথ কারণ না জানিয়ে এক যুবককে তিন মাস জেলবন্দি করে রাখাকে ‘অসাংবিধানিক’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে আদালত। বিচারপতি আব্দুল মঈন এবং বিচারপতি প্রমোদ কুমার শ্রীবাস্তবের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, এই জরিমানার অর্থ দোষী কর্মকর্তাদের পকেট থেকে আদায় করতে পারবে রাজ্য সরকার।
মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের দায়
মামলার বিবরণে জানা যায়, মনোজ কুমার নামে এক ব্যক্তিকে গত ২৭ জানুয়ারি উন্নাওয়ের একটি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। গ্রেপ্তারের পর দীর্ঘ তিন মাস অতিবাহিত হলেও তাকে আটকের কোনো লিখিত কারণ বা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ জানায়নি পুলিশ। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের একাধিক নির্দেশিকা অনুযায়ী কাউকে গ্রেপ্তার করলে তার কারণ লিখিতভাবে জানানো সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। এই প্রক্রিয়া অনুসরণ না করা নাগরিকের মৌলিক অধিকারের সরাসরি লঙ্ঘন।
আদালতের কঠোর পর্যবেক্ষণ
শুনানি চলাকালীন স্বরাষ্ট্র দপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্য সচিবের হলফনামায় কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না থাকায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিচারপতিরা। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, প্রশাসনের শীর্ষ স্তরের কর্মকর্তাদের এমন গাফিলতি সাধারণ মানুষের আইনি নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলে দেয়। এই রায়ের ফলে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে কাউকে বিনা কারণে আটকে রাখলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জবাবদিহি করতে হবে। অনতিবিলম্বে ওই যুবককে মুক্তির নির্দেশের পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার আদেশ কার্যকর করতে বলা হয়েছে।
এক ঝলকে
- বিনা কারণে তিন মাস জেলবন্দি রাখায় উত্তরপ্রদেশ সরকারকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করেছে হাই কোর্ট।
- গ্রেপ্তারির কারণ লিখিতভাবে না জানানোকে মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হয়েছে।
- জরিমানার এই অর্থ দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের কাছ থেকে আদায়ের সুযোগ রাখা হয়েছে আদালতের রায়ে।
- ভুক্তভোগী যুবককে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইলাহাবাদ হাই কোর্টের লখনউ বেঞ্চ।
