বিনোদন জগতে পাঁচ দশকের অবদানের স্বীকৃতি, রাষ্ট্রপতির হাত থেকে পদ্ম সম্মান নিচ্ছেন মাম্মুট্টি! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ভারতীয় সিনেমার অন্যতম কিংবদন্তি ও সাংস্কৃতিক আইকন মাম্মুট্টি আগামী ২৩ জুন মর্যাদাপূর্ণ পদ্ম সম্মানে ভূষিত হতে চলেছেন। ২০২৬ সালের ‘সিভিল ইনভেস্টিচার সেরিমনি-২’-এ রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হাত থেকে তিনি এই সম্মান গ্রহণ করবেন। এই অনুষ্ঠানে মাম্মুট্টির পাশাপাশি আর মাধবন, সতীশ শাহ এবং রাজেন্দ্র প্রসাদ-সহ আরও বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে পদ্মবিভূষণ, পদ্মভূষণ ও পদ্মশ্রী পুরস্কার প্রদান করা হবে।
পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের অনন্য দৃষ্টান্ত
চলচ্চিত্র জগতে কোনো পূর্বসূত্র বা গডফাদার ছাড়াই কেবল নিজের মেধা ও নিরলস প্রচেষ্টার ওপর ভর করে আজ মালয়ালম সিনেমার সুপারস্টারে পরিণত হয়েছেন মাম্মুট্টি। গত পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি মালয়ালম, তামিল, তেলুগু, কন্নড়, হিন্দি ও ইংরেজি ভাষার চারশোরও বেশি ছবিতে অভিনয় করেছেন। নিখুঁত অভিনয় দক্ষতায় শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে তিনি তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছেন, যা দেশের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এবং এই অনন্য কৃতিত্ব তিনি কমল হাসান ও অজয় দেবগণের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি তাঁর সমাজসেবামূলক কাজ ও জনকল্যাণমুখী উদ্যোগগুলি তাঁকে সাধারণ মানুষের আরও কাছাকাছি পৌঁছে দিয়েছে।
সংগ্রামের দিনগুলি থেকে সাফল্যের শিখরে
মাম্মুট্টির এই বর্ণময় যাত্রাপথ মোটেও মসৃণ ছিল না। ১৯৭১ সালে পরিচালক কে এস শেঠুমাধবনের ‘অনুভবাঙ্গাল পালিচাকাল’ ছবিতে প্রথমবার পর্দায় উপস্থিত হলেও তিনি কোনো স্বীকৃতি পাননি। জ্ঞানপীঠ পুরস্কারপ্রাপ্ত সাহিত্যিক এম টি বাসুদেবন নায়ারের লেখা ‘দেবলোকম’ ছবির মাধ্যমে তাঁর পরিকল্পিত আত্মপ্রকাশের কথা থাকলেও, ছবিটি শেষ পর্যন্ত আসামাপ্ত থেকে যায়। অবশেষে ১৯৮০ সালে ‘ভিলক্কানুন্ডু স্বপ্নঙ্গল’ ছবির টাইটেল কার্ডে প্রথমবার তাঁর নাম জ্বলজ্বল করে ওঠে। দীর্ঘ অভিনয় জীবন ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার কারণেই রাষ্ট্রীয় স্তরে তাঁকে এই সম্মান প্রদান করা হচ্ছে। এই বিরল সম্মাননা ভারতীয় চলচ্চিত্রে তাঁর অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি আগামী প্রজন্মের অগণিত শিল্পীর কাছে কঠোর পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাসের এক বড় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
