বিপর্যয়ের আগাম বার্তা দেবে আপনার ফোন! হাতছাড়া না করতে চাইলে আজই বদলান ফোনের এই সেটিংস

প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা জাতীয় জরুরি অবস্থায় নাগরিকদের দ্রুত সতর্ক করতে ভারত সরকার দেশজুড়ে ‘সেল ব্রডকাস্ট সিস্টেম’ বা এমার্জেন্সি অ্যালার্ট পরিষেবার পরীক্ষা শুরু করেছে। শনিবার পরীক্ষামূলকভাবে পাঠানো এই সতর্কবার্তা ভবিষ্যতে বন্যা, ভূমিকম্প বা ঘূর্ণিঝড়ের মতো বিপর্যয়ের সময় সরাসরি সাধারণ মানুষের ফোনে পৌঁছে যাবে। এই ব্যবস্থার বিশেষত্ব হলো, এর জন্য কোনো ইন্টারনেট সংযোগ বা বিশেষ অ্যাপের প্রয়োজন নেই; এমনকি দুর্বল নেটওয়ার্কেও ফোনে উচ্চশব্দে সতর্কবার্তা বেজে উঠবে।
সিম ছাড়াই কাজ করবে এই প্রযুক্তি
প্রযুক্তিগতভাবে এই সিস্টেমটি ফোন নম্বরের পরিবর্তে নির্দিষ্ট এলাকার ওপর ভিত্তি করে কাজ করে। এর ফলে কোনো এলাকায় নেটওয়ার্ক টাওয়ার সচল থাকলে, সিম কার্ড ছাড়াও ফোনে জরুরি বার্তা ভেসে উঠতে পারে। সাধারণ এসএমএস অনেক সময় নেটওয়ার্ক জ্যামের কারণে আটকে যায়, কিন্তু এই ডিজিটাল লাউডস্পিকার পদ্ধতি সরাসরি টাওয়ার থেকে সম্প্রচারিত হওয়ায় তাৎক্ষণিক তথ্য আদান-প্রদান সম্ভব হয়। এটি মূলত জানমালের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে একটি কার্যকর জীবন রক্ষাকারী মাধ্যম হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
সতর্কবার্তা না পাওয়ার কারণ ও প্রভাব
উন্নত এই পরিষেবা সত্ত্বেও ফোনের কিছু ভুল সেটিংস বা পরিস্থিতির কারণে অনেকে এই সুবিধার বাইরে থেকে যেতে পারেন। যদি ফোনের সেটিংসে ‘এমার্জেন্সি অ্যালার্ট’ অপশনটি বন্ধ রাখা হয়, তবে কোনো সতর্কবার্তা আসবে না। এছাড়া ফোন সম্পূর্ণ বন্ধ থাকলে, এরোপ্লেন মোড চালু থাকলে বা ব্যাটারি না থাকলে এই বার্তা পৌঁছানো সম্ভব নয়। অতি পুরোনো ফিচার ফোন যেগুলোতে এই প্রযুক্তি নেই, সেগুলোও এই পরিষেবার আওতায় পড়বে না। সঠিক সময়ে তথ্য না পৌঁছালে দুর্যোগের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে।
এক ঝলকে
- দুর্যোগের সময় দ্রুত তথ্য দিতে সরকারিভাবে সেল ব্রডকাস্ট সিস্টেমের পরীক্ষা চালানো হচ্ছে।
- এই পরিষেবার জন্য কোনো ইন্টারনেট বা আলাদা অ্যাপের প্রয়োজন হবে না।
- ফোনের সেটিংসে অ্যালার্ট বন্ধ থাকলে বা এরোপ্লেন মোডে থাকলে কোনো সতর্কবার্তা আসবে না।
- এটি নম্বরের বদলে লোকেশন অনুযায়ী কাজ করায় সিম ছাড়াও বার্তা পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
