বিমানে দুই পাইলট কেন কখনো এক খাবার খান না? আসল কারণ জেনে চমকে উঠবেন!

বিমানে যাতায়াতের সময় হাজার হাজার ফুট উঁচুতে যাত্রীদের নিরাপত্তার মূল দায়িত্ব থাকে ককপিটের পাইলটদের কাঁধেই। আকাশপথে ঝুঁকি এড়াতে পাইলটদের জন্য অত্যন্ত কড়া কিছু নিরাপত্তা বিধি মেনে চলা হয়, যার মধ্যে একটি চমকপ্রদ নিয়ম হলো দুই পাইলটকে কখনো একই খাবার দেওয়া হয় না। মূলত খাদ্যবিষক্রিয়া বা ফুড পয়জনিংয়ের মারাত্মক ঝুঁকি এড়াতেই বিমানসংস্থাগুলো এই বিশেষ প্রোটোকল মেনে চলে। যদি কোনো কারণে খাবারে বিষক্রিয়া বা জীবাণু থাকে, তবে ক্যাপ্টেন এবং ফার্স্ট অফিসার উভয়েই একসঙ্গে অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে ককপিটে বিমান নিয়ন্ত্রণ করার মতো কোনো সুস্থ পাইলট থাকবেন না, যা পুরো বিমানের জন্য চরম বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
এই জীবন রক্ষাকারী ঝুঁকি এড়াতেই বিমান চলাচলের সময় একজন পাইলটকে আমিষ (যেমন চিকেন বা মাছ) দেওয়া হলে অন্যজনকে দেওয়া হয় নিরামিষ বা পাস্তা জাতীয় সম্পূর্ণ ভিন্ন খাবার। একই সঙ্গে দুই পাইলট কখনোই একসাথে বসে খাবার খান না; একজন যখন খাবার গ্রহণ করেন, তখন অন্যজন ককপিটের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে থাকেন। যদিও এটি আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের বাধ্যতামূলক কোনো আইন নয়, তবুও সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে অধিকাংশ বিমানসংস্থা নিজস্ব নিরাপত্তাবিধি হিসেবে এটি কঠোরভাবে অনুসরণ করে। চালক যেমন রাস্তার পাশে গাড়ি থামিয়ে বিশ্রাম নিতে পারেন, উড়ান্ত বিমানের ক্ষেত্রে সেই সুযোগ নেই। তাই আকাশে শত শত যাত্রীর সুরক্ষায় পাইলটদের খাবার থেকে শুরু করে সর্বক্ষেত্রে নিরাপত্তাকেই দেওয়া হয় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
