বিয়ের ২৮ দিনের মাথায় ১৬ তলা থেকে ঝাঁপ নববধূর! অবসাদ নাকি পণপ্রথা, চরম পদক্ষেপের নেপথ্যে কী? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
নয়ডা: বিয়ের পর মাসখানেকও কাটেনি, তার আগেই আবাসন থেকে ঝাঁপ দিয়ে চরম পদক্ষেপ করলেন এক ২৫ ছুঁইছুঁই নববধূ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে নয়ডায়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ২৪ বছর বয়সি ওই তরুণীর নাম কামিনী কুমারী। আবাসনের ১৬ তলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন তিনি।
গত ১১ জুলাই উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা মান্থান ধীমানের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল কামিনীর। মান্থান একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। বিয়ের পর নয়ডার একটি ভাড়া ফ্ল্যাটে একসঙ্গেই বসবাস করছিলেন এই নবদম্পতি। ঘটনার দিন, রবিবার সন্ধ্যায় আচমকা চিৎকারের শব্দ পেয়ে ছুটে আসেন প্রতিবেশীরা। তারা কামিনীকে নিচে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।
ঘটনার পেছনে মানসিক অবসাদ নাকি শ্বশুরবাড়ির নির্যাতন—তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।
- স্বামীর দাবি: কামিনী বেশ কিছু দিন ধরে তীব্র মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। তিনি চিকিৎসকের পরামর্শ নিচ্ছিলেন এবং নিয়মিত ওষুধও খেতেন। এমনকি সম্প্রতি তিনি নিজের চাকরিটিও ছেড়ে দিয়েছিলেন।
- পরিবারের অভিযোগ: কামিনীর বাপের বাড়ির লোক সম্পূর্ণ বিপরীত দাবি করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, অতিরিক্ত পণের দাবিতে বিয়ের পর থেকেই কামিনীর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন তাঁর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকেরা। সেই সহ্যসীমা হারিয়েই কামিনী বাধ্য হয়ে এই চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
খবর পেয়ে পুলিশ এসে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। আবাসনের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখার পাশাপাশি ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। পরিবারের পক্ষ থেকে কামিনীর স্বামী মান্থান ধীমানের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
