বিলাসবহুল গাড়ি নয়, সামান্য সঞ্চয়ই সম্বল! লড়াইয়ের ময়দানে অদম্য এই প্রার্থী।

বিলাসবহুল রাজনীতির ভিড়ে ব্যতিক্রমী মুখ, আউশগ্রামের প্রার্থী কলিতা মাজি
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যখন অধিকাংশ প্রার্থীর হলফনামায় কোটি কোটি টাকার সম্পত্তির পাহাড় দেখা যায়, তখন পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী কলিতা মাজি এক অনন্য নজির সৃষ্টি করেছেন। পরিচারিকার কাজ করে সংসার চালানো কলিতা মাজির জীবনসংগ্রাম ফুটে উঠেছে তাঁর জমা দেওয়া হলফনামায়। যেখানে আভিজাত্যের চেয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতাই তাঁর প্রধান শক্তি বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
স্বচ্ছ হলফনামা ও জীবনসংগ্রাম
মনোনয়নপত্রের তথ্যানুযায়ী, কলিতা মাজির হাতে নগদ রয়েছে মাত্র ৫ হাজার টাকা এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমানো আছে ৪৩ হাজার টাকা। কোনো সোনার গয়না বা ব্যক্তিগত গাড়ির মালিক তিনি নন। আয়ের উৎস হিসেবে হলফনামায় তিনি উল্লেখ করেছেন নিজের পরিচারিকার কাজ এবং স্বামী সুব্রত মাজির দিনমজুরির কথা। স্থাবর সম্পত্তির তালিকায় নিজের নামে কোনো জমি না থাকলেও স্বামীর নামে রয়েছে ৩ লক্ষ টাকার সম্পত্তি। এমন আর্থিক প্রতিকূলতার মধ্যেও গত বিধানসভা নির্বাচনের পর এবারও তিনি গেরুয়া শিবিরের অন্যতম ভরসা হিসেবে নির্বাচনে লড়ছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কলিতা মাজির এই প্রার্থীপদ বিজেপির এক বিশেষ কৌশল। সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে তিনি প্রান্তিক মানুষের আবেগ ও সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সভায় তাঁর উপস্থিতি প্রমাণ করে, দলের কাছে তাঁর গুরুত্ব বাড়ছে। হেভিওয়েট প্রার্থীদের বিরুদ্ধে তাঁর এই লড়াই আউশগ্রামের নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার ক্ষেত্রে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
এক ঝলকে
- পেশা: কলিতা মাজি পেশায় পরিচারিকা এবং তাঁর স্বামী দিনমজুর।
- সম্পত্তি: প্রার্থীর নিজের নামে অস্থাবর সম্পত্তি ১ লক্ষ ৬১ হাজার ২১৬ টাকার, সোনা বা গয়না নেই।
- রাজকীয় বিলাসিতার অভাব: ব্যক্তিগত জীবনে কোনো গাড়ি বা বিলাসিতা নেই, জীবন কাটে হাড়ভাঙা খাটুনিতে।
- লক্ষ্য: সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে আউশগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে পুনরায় লড়াইয়ের ময়দানে তিনি।
