বিলাসবহুল ট্রাম্প টাওয়ার কি এবার ভাঙা পড়বে, শাসকদলের কাউন্সিলরের বিস্ফোরক দাবিতে তোলপাড় কলকাতা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
খাস কলকাতার বুকে ইস্টার্ন মেট্রোপলিটন (ইএম) বাইপাসের ধারে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে থাকা বিলাসবহুল আকাশচুম্বী ‘ট্রাম্প টাওয়ার’ নিয়ে নজিরবিহীন কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠেছে। কলকাতার অন্যতম হাই-প্রোফাইল এই বহুতল আবাসিক প্রকল্পটিকে ‘সম্পূর্ণ বেআইনি’ বলে দাগিয়ে দিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় ফেলে দিয়েছেন খোদ শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের এক প্রভাবশালী কাউন্সিলর। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে কীভাবে এই বিশাল ইমারত দাঁড়িয়ে গেল, তা নিয়ে পুরসভার অন্দরেই এখন আড়াআড়ি বির্তক তুঙ্গে।
তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক জাভেদ আহমেদ খানের পুত্র তথা তৃণমূল কাউন্সিলর ফৈয়াজ আহমেদ খান এই বহুতল নিয়ে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, সম্পূর্ণ ভবনটি সমস্ত পুর-নিয়ম ও আইনি বিধি লঙ্ঘন করে খাড়া করা হয়েছে। কোনো বৈধ অনুমোদন বা প্রপার অথরাইজেশন ছাড়াই এত বড় একটি প্রজেক্ট তৈরি হয়েছে। বোরো মিটিংয়ে এই নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ ও লিখিত অভিযোগ জানানোর পরেও কোনো পদক্ষেপ না করায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সেই সাথে গরিবের ঝুপড়ি ভাঙতে বুলডোজার চললে এই বড়লোকদের আবাসন কেন ছাড় পাবে, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।
ভবনের উচ্চতা ও তলা নিয়ে অসঙ্গতির ধন্দ
তৃণমূল কাউন্সিলরের এই বিস্ফোরক দাবির পর নির্মাণ শিল্প ও রাজনৈতিক মহল নড়েচড়ে বসলেও একটি বড়সড় অসঙ্গতি দানা বেঁধেছে। কাউন্সিলর ফৈয়াজ আহমেদ যেখানে ভবনটিকে ‘৪২ তলা’ বলে দাবি করছেন, সেখানে সরকারি নথি এবং অফিশিয়াল স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী ইএম বাইপাসের ধারের এই স্কাইস্ক্র্যাপারটি আসলে ১৪০ মিটার উঁচু এবং ৩৮ তলার একটি বহুতল। তলার এই হিসেব নিয়ে ধন্দ তৈরি হওয়ায় বিতর্কের পারদ আরও চড়েছে।
যৌথ উদ্যোগ ও কোটি টাকার বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ
কলকাতার এই ট্রাম্প টাওয়ার প্রকল্পটি আসলে ট্রাইবেকা, ইউনিমার্ক এবং আরডিবি—এই তিন নামী সংস্থার কনসোর্টিয়াম বা যৌথ উদ্যোগে তৈরি হচ্ছে। ২০১৬ সালের গ্রীষ্মকালে এই তিন সংস্থার জোট তৈরি হওয়ার পর কাজ শুরু হয়েছিল। বিশ্বখ্যাত মার্কিন ব্র্যান্ড ‘ট্রাম্প’-এর নাম জড়ানো থাকায় শুরু থেকেই শহরের ধনকুবের ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা এই বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টে কোটি কোটি টাকা ঢেলে ফ্ল্যাট বুক করেছেন।
খোদ শাসকদলের এক হেভিওয়েট নেতার কাউন্সিলর পুত্র এভাবে দুর্নীতি নিয়ে মুখ খোলায় এখন প্রশ্নের মুখে কলকাতা পুরসভা (KMC) এবং অন্যান্য নিয়ামক সংস্থাগুলির ভূমিকা। কার মদতে এতদিন এই বেআইনি নির্মাণ চোখের সামনে বাড়ল এবং এর আসল মাথা কারা, তা নিয়ে এখন নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি উঠতে শুরু করেছে। ঘটনার জেরে এই আবাসন প্রকল্পের ভবিষ্যৎ এবং ক্রেতাদের বিশাল অঙ্কের বিনিয়োগ এখন গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
