বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে লাল কার্ডের ছড়াছড়ি, নায়কদের ছাপিয়ে খবরের শিরোনামে ‘রোবোকপ’ রেফারি! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে মেক্সিকো ২-০ গোলে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে ঘরের মাঠে দুর্দান্ত শুরু করেছে। জুলিয়ান কিনিওনেস এবং রাউল হিমেনেসের গোলে মেক্সিকো জয় পেলেও, ম্যাচ শেষে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে কোনো ফুটবলার নেই। বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে ক্রীড়ামহল, সবখানে চর্চা চলছে ব্রাজিলের ম্যাচ অফিশিয়াল উইলটন সাম্পাইওকে নিয়ে। তিন-তিনটি লাল কার্ড এবং অদ্ভুত দর্শন হেডসেট পরে মাঠে নেমে তিনি রীতিমতো চমক সৃষ্টি করেছেন।
হেডসেট বিতর্ক ও লাল কার্ডের বৃষ্টি
ম্যাচের শুরুতেই দর্শকদের নজর কাড়ে সাম্পাইওর কানে থাকা বিশালাকার যোগাযোগ যন্ত্রটি, যা দেখতে অনেকটা ভিডিও গেমের হেডসেট বা ‘রোবোকপ’ সিনেমার চরিত্রের মতো। এটি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় মিমের বন্যা বয়ে যায়। তবে খেলা যত এগিয়েছে, হাসিঠাট্টা রূপ নিয়েছে কার্ডের পরিসংখ্যানে। দ্বিতীয়ার্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার ইয়াইয়া সিথোলে এবং থেম্বা জোয়ানে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। অতিরিক্ত সময়ে মেক্সিকোর সিজার মন্টেসকেও লাল কার্ড দেখানো হয়। ফলস্বরূপ দক্ষিণ আফ্রিকা নয়জন এবং মেক্সিকো দশজন খেলোয়াড় নিয়ে ম্যাচ শেষ করতে বাধ্য হয়। ২০০৬ সালের ‘ব্যাটল অব ন্যুরেমবার্গ’-এর পর বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচে এটি অন্যতম সর্বোচ্চ কার্ড প্রদর্শনের ঘটনা।
কঠোর শৃঙ্খলার বার্তা ও সম্ভাব্য প্রভাব
৪৪ বছর বয়সী উইলটন সাম্পাইও ২০১৩ সাল থেকে ফিফার আন্তর্জাতিক রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। গত কাতার বিশ্বকাপেও তিনি তার কঠোর সিদ্ধান্তের জন্য আলোচিত ছিলেন। মাঠে শৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে মুড়িমুড়কির মতো কার্ড দেখাতে তিনি মোটেও দ্বিধাবোধ করেন না। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই এমন কঠোর রেফারিংয়ের মূল কারণ হলো মাঠে শৃঙ্খলা ভাঙার বিরুদ্ধে ফিফার জিরো-টলারেন্স নীতির সরাসরি প্রয়োগ। উদ্বোধনী ম্যাচেই এমন কার্ডের বৃষ্টি আসন্ন টুর্নামেন্টের অন্য দলগুলোর জন্যও একটি কড়া সতর্কবার্তা। খেলোয়াড়রা এখন থেকে ফাউল বা অসদাচরণের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে বাধ্য হবেন, যা পুরো বিশ্বকাপের গতিপ্রকৃতি ও দলগুলোর কৌশলগত পরিকল্পনায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।
