বিশ্বকাপের মুখে তীব্র অর্থসংকটে পাকিস্তান হকি, দৈনিক মাত্র ৩৩৫ টাকার ভাতার অপমানে ফুঁসছেন খেলোয়াড়রা – এবেলা

বিশ্বকাপের মুখে তীব্র অর্থসংকটে পাকিস্তান হকি, দৈনিক মাত্র ৩৩৫ টাকার ভাতার অপমানে ফুঁসছেন খেলোয়াড়রা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

আগামী আগস্টে এফআইএইচ হকি বিশ্বকাপ। অথচ মেগা টুর্নামেন্টের ঠিক আগ মুহূর্তে এসে চরম আর্থিক সংকট ও অপমানের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে পাকিস্তানের জাতীয় হকি দলের খেলোয়াড়রা। বড় অঙ্কের ভাতার প্রতিশ্রুতি দিয়েও শেষ পর্যন্ত খেলোয়াড়দের দৈনিক বরাদ্দ মাত্র ৩০০০ পাকিস্তানি রুপি থেকে কমিয়ে ১০০০ রুপি (ভারতীয় মুদ্রায় মাত্র ৩৩৫ টাকা) করেছে দেশটির হকি ফেডারেশন। এই নামমাত্র দৈনিক ভাতার সিদ্ধান্তে ক্ষোভে ফুঁসছেন দলের খেলোয়াড়রা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও নেটিজেনরা একে পাকিস্তানের চরম ‘ভিখারিদশা’ বলে তীব্র কটাক্ষ করছেন।

প্রতিশ্রুতির আড়ালে চরম বঞ্চনা

কয়েক বছর ধরেই তীব্র আর্থিক অনটনে ধুঁকছে পাকিস্তানের হকি। অথচ এবারের এফআইএইচ হকি বিশ্বকাপের আগে পাকিস্তান হকি ফেডারেশন খেলোয়াড়দের আশ্বাস দিয়েছিল যে, বিদেশ সফরে গেলে তাদের দৈনিক ভাতা অনেকটাই বাড়িয়ে ১০ হাজার ৫০০ টাকা করা হবে। কিন্তু ক্যাম্প শুরু হতেই দেখা গেল বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। ট্রেনিং ক্যাম্পে যোগ দিলে আগে যেখানে ৩০০০ পাকিস্তানি রুপি পাওয়া যেত, এখন তা এক-তৃতীয়াংশ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। আগামী মাসে এফআইএইচ প্রো লিগ ম্যাচের জন্য ২০ জনের দল ঘোষণা করা হলেও এই চরম বিশৃঙ্খলার কারণে এখনও অধিনায়কের নাম চূড়ান্ত করতে পারেনি ফেডারেশন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক খেলোয়াড় হতাশা ব্যক্ত করে জানিয়েছেন, এই নামমাত্র টাকা তাঁদের কাছে অত্যন্ত অপমানজনক।

রাস্তায় রাত কাটানো থেকে বাসন মাজার অতীত

পাকিস্তান হকি দলের জন্য এই ধরণের চরম বিড়ম্বনা এবারই প্রথম নয়। এর আগে অস্ট্রেলিয়া সফরে ফেডারেশন সময়মতো টাকা না দেওয়ায় হোটেল কর্তৃপক্ষ বুকিং বাতিল করে দেয়। ফলে ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টা ব্যাগ-লাগেজ নিয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াতে হয়েছিল জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের। এমনকি পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, বিদেশের হোটেলের খরচ মেটাতে না পেরে এক পর্যায়ে খেলোয়াড়দের বাসন পর্যন্ত মাজতে হয়েছে। অতীতে মিশরে বিশ্বকাপ যোগ্যতা অর্জন পর্বেও এমন চরম অব্যবস্থাপনার মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাদের।

ভবিষ্যৎ ও সম্ভাব্য প্রভাব

বারবার এমন নজিরবিহীন আর্থিক কেলেঙ্কারি ও বঞ্চনার কারণে ফেডারেশনের ওপর থেকে সম্পূর্ণ আস্থা হারিয়েছেন খেলোয়াড়রা। কর্তৃপক্ষের দেওয়া বর্ধিত ভাতার নতুন আশ্বাসকে তারা আর বিশ্বাস করতে পারছেন না। বিশ্বকাপের মতো বড় আসরের আগে খেলোয়াড়দের এই মানসিক অসন্তোষ, তীব্র ক্ষোভ এবং আর্থিক অনিশ্চয়তা মাঠে দলের পারফরম্যান্সে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। যথাযথ সুযোগ-সুবিধা ও সম্মান না পাওয়ায় পাকিস্তানের জাতীয় খেলা হকির ভবিষ্যৎ এখন চরম অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *