বিশ্বকাপে টাকার খেলা, রেকর্ড প্রাইজমানি ঘোষণা করে বড় চমক দিল ফিফা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে এখন থেকেই উন্মাদনা তুঙ্গে। আগামী ১১ জুন থেকে উত্তর আমেরিকার তিন দেশ— আমেরিকা, মেক্সিকো ও কানাডায় শুরু হতে যাওয়া এই আসরটি কেবল মাঠের লড়াই নয়, বরং ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল টুর্নামেন্ট হতে চলেছে। এই বিপুল খরচের বোঝা সামলাতে এবং অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুরস্কার মূল্যে বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা করেছে ফিফা। ভ্যাঙ্কুভারে আয়োজিত ফিফা কাউন্সিলের বৈঠকে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ঐতিহাসিক প্রাইজমানি বৃদ্ধি ও উন্নয়ন তহবিল প্রাথমিকভাবে গত বছর পুরস্কার বাবদ ৭২৭ মিলিয়ন ডলারের কথা বলা হলেও, বর্তমান বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করে সেই অংক আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফিফা। এবারের আসরে রেকর্ড ৪৮টি দেশ অংশগ্রহণ করবে। পূর্বের ঘোষণা অনুযায়ী প্রতিটি দেশের জন্য ন্যূনতম ১০.৫ মিলিয়ন ডলার এবং বিজয়ীর জন্য ৫০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ থাকলেও, নতুন প্রস্তাবে তা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে। এছাড়া ২১১টি সদস্য দেশের জন্য নির্ধারিত ৩ বিলিয়ন ডলারের ‘ডেভেলপমেন্ট ফান্ড’ আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে ফিফা।
খরচ সামাল দিতে বড় পদক্ষেপ ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, আমেরিকা ও কানাডার মতো বিশাল দেশে যাতায়াত, আবাসন এবং অপারেশনাল খরচ অত্যন্ত বেশি। সদস্য দেশগুলো আশঙ্কা করেছিল যে, পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ না থাকলে অনেক দেশকে লোকসানের মুখে পড়তে হবে। তবে বর্তমানে ফিফা অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। মূলত ফুটবলারদের স্বস্তি দিতে এবং বিশ্বজুড়ে ফুটবলের প্রসারে ‘ফিফা ফরোয়ার্ড’ প্রোগ্রামের আওতায় এই বাড়তি অর্থ ব্যয় করা হবে।
টিকিটের মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে জনমনে কিছুটা বিতর্ক তৈরি হলেও ফিফার দাবি, সংগৃহীত এই অতিরিক্ত অর্থ ফুটবলের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন এবং বিশ্বকাপের বিশাল কর্মযজ্ঞ পরিচালনার কাজেই ব্যবহার করা হবে। সামগ্রিকভাবে ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আয়োজন এবং সর্বোচ্চ আর্থিক অবদানের এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে যাচ্ছে।
এক ঝলকে
- ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী ৪৮টি দেশের জন্য রেকর্ড প্রাইজমানি ঘোষণা করেছে ফিফা।
- উত্তর আমেরিকার তিন দেশে যাতায়াত ও আবাসনের বিপুল খরচ মেটাতেই এই আর্থিক বৃদ্ধি।
- চ্যাম্পিয়ন দলের ৫০ মিলিয়ন ডলার এবং উন্নয়ন তহবিলের ৩ বিলিয়ন ডলারের অংক আরও বাড়ছে।
- ফিফার শক্তিশালী আর্থিক অবস্থান ও ‘ফিফা ফরোয়ার্ড’ প্রোগ্রামের মাধ্যমে ফুটবলের প্রসারে এই ব্যয়।
