বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র বিক্ষোভ দমনে তাণ্ডব, শূন্যে গুলি ছুড়ে তাড়া পাক সেনা কর্মকর্তার! তদন্তে ইসলামাবাদ – এবেলা

বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র বিক্ষোভ দমনে তাণ্ডব, শূন্যে গুলি ছুড়ে তাড়া পাক সেনা কর্মকর্তার! তদন্তে ইসলামাবাদ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পাকিস্তানে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ দিন দিন তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। বেলুচিস্তান, খাইবার পাখতুনখাওয়া কিংবা পাক-অধিকৃত কাশ্মীর— সর্বত্রই সেনাবিরোধী স্লোগানে উত্তাল পরিস্থিতি। এই টানটান উত্তেজনার আবহেই এবার এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটল বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙিনায়। অন্যায্য ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদ করায় শিক্ষার্থীদের ওপর চড়াও হয়ে শূন্যে গুলি চালানোর অভিযোগ উঠল এক উচ্চপদস্থ পাক সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

ঘটনার নেপথ্যে কী?

ঘটনাটি ঘটেছে পাকিস্তানের সরহদ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাওয়াত ক্যাম্পাসে। জানা গেছে, সম্প্রতি লাগামছাড়া ফি বৃদ্ধি এবং ক্লাসের সময়সূচির পরিবর্তন নিয়ে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ প্রদর্শন করছিলেন। আন্দোলন থামাতে ঘটনাস্থলে হাজির হন বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্স’-এর প্রধান ড. আইনা। তিনি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন প্রত্যাহার করার নির্দেশ দেন। কিন্তু শিক্ষার্থীরা নিজেদের দাবিতে অনড় থাকলে, ক্ষুব্ধ হয়ে ড. আইনা তার স্বামীকে ফোন করে ডেকে পাঠান। উল্লেখ্য, তার স্বামী পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একজন পদস্থ কর্মকর্তা (কর্নেল বা ব্রিগেডিয়ার পদমর্যাদার)।

ক্যাম্পাসে আতঙ্ক ও পিস্তল উঁচিয়ে হুমকি:

অভিযোগ, স্ত্রীর ফোন পেয়েই ওই সেনা কর্মকর্তা সামরিক পোশাক পরিহিত অবস্থায় সটান বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকে পড়েন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, কোনোপ্রকার প্ররোচনা ছাড়াই তিনি হাতে থাকা লাঠি দিয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বেধড়ক পেটাতে শুরু করেন। শিক্ষার্থীরা পাল্টা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি হাতাহাতিতে রূপ নেয়।

ঠিক তখনই ঘটে চরম অঘটন! ওই কর্মকর্তা নিজের সার্ভিস পিস্তল বের করে শূন্যে এক রাউন্ড গুলি চালান এবং লাইভ অস্ত্রটি সরাসরি শিক্ষার্থীদের দিকে তাক করে হুমকি দিতে থাকেন। এই ঘটনার পর পুরো ক্যাম্পাসে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, দিকবিদিক জ্ঞান হারিয়ে ছুটতে শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।

নেটপাড়ায় ভাইরাল ভিডিও, নড়েচড়ে বসল সেনা:

সম্প্রতি এই গা শিউরে ওঠা ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে। সেখানে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, হাতে সার্ভিস পিস্তল উঁচিয়ে রোষে ফুঁসছেন ওই সেনা কর্মকর্তা, আর তার চারপাশে ভয়ে ছোটাছুটি করছেন শিক্ষার্থীরা।

ভিডিওটি সামনে আসতেই পাকিস্তানজুড়ে তীব্র বিতর্কের ঝড় উঠেছে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তড়িঘড়ি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে পাকিস্তান সামরিক বাহিনী। সেনা সূত্রের খবর, ভাইরাল ভিডিওর সত্যতা মেনে নিয়ে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় পদক্ষেপ শুরু হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *