‘বিশ্বাসঘাতক’ তকমার মাঝেই কোলে নাতি নিয়ে কোচবিহারে জগদীশ! বিক্ষোভ রুখতে কড়া নিরাপত্তা – এবেলা

‘বিশ্বাসঘাতক’ তকমার মাঝেই কোলে নাতি নিয়ে কোচবিহারে জগদীশ! বিক্ষোভ রুখতে কড়া নিরাপত্তা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

কোচবিহার: ভোটের ফলপ্রকাশের দিন জেলা ছেড়েছিলেন। এরপর দিল্লিতে গিয়ে দলবদল, ‘বিশ্বাসঘাতক’ তকমা— সব মিলিয়ে দীর্ঘ ৫০ দিন পর অবশেষে নিজের খাসতালুক কোচবিহারে পা রাখলেন সদ্য তৃণমূলত্যাগী সাংসদ জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া। দলবদলু এই সাংসদকে ঘিরে ব্যাপক জনরোষের আশঙ্কায় মঙ্গলবার স্টেশন চত্বর মুড়ে ফেলা হয়েছিল কড়া নিরাপত্তায়।

কোলে নাতি নিয়ে স্টেশনে জগদীশ

মঙ্গলবার দুপুর সওয়া ১২টা নাগাদ শিয়ালদহ থেকে পদাতিক এক্সপ্রেসে নিউ কোচবিহার স্টেশনে পৌঁছন জগদীশ। সঙ্গে ছিলেন তাঁর ছেলে ও নাতি। স্টেশনে নেমে নাতিকে নিজের কোলেই তুলে নেন তিনি। কড়া পুলিশি ঘেরাটোপের মধ্যেই স্টেশন থেকে বেরিয়ে গাড়িতে করে সোজা সিতাইয়ের উদ্দেশে রওনা দেন এই বিতর্কিত সাংসদ।

কেন এই কড়া নিরাপত্তা ও বিক্ষোভের শঙ্কা?

  • দলবদল ও বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ: গত ৪ মে ভোটের ফলপ্রকাশের পরই কোচবিহার ছাড়েন জগদীশ। এরপর দিল্লিতে গিয়ে তৃণমূলের আরও ১৯ জন সাংসদের সঙ্গে একযোগে তিনি যোগ দেন অখ্যাত রাজনৈতিক দল ‘এনসিপিআই’-তে। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির ইতিমধ্যেই তাঁদের বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতার মারাত্মক অভিযোগ তুলেছে।
  • জনরোষের ভয়: ভোটের ফলপ্রকাশের পর থেকেই রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন জায়গায় জনরোষের মুখে পড়ছেন স্থানীয় নেতারা। তাঁদের উদ্দেশে ডিম ছোঁড়া এবং ‘চোর’ স্লোগান দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে। কোচবিহারেই সদ্য ধৃত তৃণমূল নেতা উদয়ন গুহকে একই ধরনের ক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছিল। যদিও জগদীশ এখন খাতায়-কলমে আর তৃণমূলের কেউ নন, তবুও তাঁর দলত্যাগের ধরন এবং বিশ্বাসঘাতকতার কারণে সাধারণ মানুষ বা তৃণমূল কর্মীরা তাঁর বিরুদ্ধেও তীব্র বিক্ষোভ দেখাতে পারেন বলে পুলিশের প্রবল আশঙ্কা ছিল।

এত নাটকের পর দীর্ঘ ৫০ দিন পর জেলায় ফেরা নিয়ে এদিন স্টেশন চত্বরে সাংবাদিকদের একাধিক প্রশ্নের মুখে পড়েন জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া। কিন্তু সংবাদমাধ্যমের সামনে একেবারে নিশ্চুপ থেকে তিনি কোনও মন্তব্য করতে অস্বীকার করেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *