বিশ্ব পরিবেশ দিবসে শুভেন্দু অধিকারীর মহাপরিকল্পনা, আমূল বদলে যাচ্ছে বাংলার পরিবেশ ও মন্দির চত্বর! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বিশ্ব পরিবেশ দিবসে রাজ্যের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা ও ধর্মীয় পর্যটন কেন্দ্রগুলোর আধুনিকীকরণে একগুচ্ছ মহাপরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কলকাতার নলবনে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে ‘একটি গাছ মায়ের নামে’ কর্মসূচির সূচনা করে তিনি এই নতুন রূপরেখা প্রকাশ করেন। সরকারের এই উদ্যোগে একদিকে যেমন সবুজায়নে জোর দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে তেমনই প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়াস নেওয়া হয়েছে।
মন্দির চত্বরে স্বচ্ছতা ও ১ কোটি গাছের লক্ষ্যমাত্রা
মুখ্যমন্ত্রীর নতুন পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান অংশ হলো রাজ্যের প্রধান ধর্মীয় ও আস্থার কেন্দ্রগুলোর পারিপার্শ্বিক পরিবেশের আমূল পরিবর্তন। কালীঘাট, দক্ষিণেশ্বর এবং গঙ্গাসাগরের কপিল মুনির আশ্রমের মতো পবিত্র স্থানগুলোর বাইরের পরিবেশের পরিচ্ছন্নতা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এর পাশাপাশি রাজ্যজুড়ে ১ কোটি ১০ লক্ষ গাছ লাগানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে কেবল চারা রোপণই নয়, সেগুলো যাতে পূর্ণাঙ্গ মহীরূহে পরিণত হতে পারে, সেজন্য নিয়মতান্ত্রিক রক্ষণাবেক্ষণের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আকাশপথে কলকাতা ও সংলগ্ন বারাসাত থেকে সোনারপুর অঞ্চলের নগরায়ণ পর্যবেক্ষণ করে মুখ্যমন্ত্রী উদ্বেগ প্রকাশ করেন যে, অতীতে নিয়ম না মেনে এই বিস্তীর্ণ অঞ্চলে কংক্রিটের জঙ্গল গড়ে তোলা হয়েছে। এই ভারসাম্যহীনতা দূর করতে এখন থেকে যেকোনো আবাসন প্রকল্প, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, সরকারি পরিকাঠামো এবং জাতীয় ও রাজ্য সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে মোট জায়গার এক-তৃতীয়াংশ অংশে বাধ্যতামূলকভাবে বৃক্ষরোপণ করতে হবে।
শিক্ষাক্ষেত্রে পরিবেশ সচেতনতা ও ‘স্বচ্ছ অ্যাপ’
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা গড়ে তুলতে শিক্ষাব্যবস্থায় বড়সড় বদল আনতে চলেছে রাজ্য সরকার। স্কুলশিক্ষার সিলেবাসে পরিবেশবিদ্যা এবং বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি করা হবে। একই সাথে স্কুলের পড়ুয়াদের উৎসাহিত করতে প্রতিটি বিদ্যালয়ে ‘ইকো ক্লাব’ গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। যেসমস্ত স্কুল এই কাজে সক্রিয় ভূমিকা নেবে, তাদের সরকার থেকে বিশেষ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
নাগরিকদের সরাসরি এই প্রক্রিয়ায় শামিল করতে একটি নতুন ‘স্বচ্ছ অ্যাপ’ চালুর কথা ঘোষণা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে রাজ্যের যেকোনো প্রান্তের নোংরা-আবর্জনার ছবি তুলে পাঠালে প্রশাসন দ্রুত তা পরিষ্কার করার ব্যবস্থা নেবে। সরকারের এই বহুমুখী পরিকল্পনার ফলে রাজ্যের পরিবেশ দূষণ কমবে এবং সবুজায়নের হার বৃদ্ধির পাশাপাশি একটি সুস্থ ও পরিচ্ছন্ন বাংলা গড়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।
