বীরভূমে বালি ব্যবসায়ীর ডেরায় টাকার পাহাড়, বিপুল সোনা উদ্ধার ঘিরে শোরগোল – এবেলা

বীরভূমে বালি ব্যবসায়ীর ডেরায় টাকার পাহাড়, বিপুল সোনা উদ্ধার ঘিরে শোরগোল – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

রাজ্যে পালাবদলের পর দুর্নীতি দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির মাঝেই বীরভূমে বড়সড় সাফল্য পেল জেলা পুলিশ। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মহম্মদবাজার থানার পুলিশ শুক্রবার রাতে এক বালি ব্যবসায়ীর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করল বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা ও সোনা। রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহলে ওই ব্যবসায়ীর ঘনিষ্ঠতা থাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযান শেষে পুলিশ শামিম শেখ নামে এক প্রভাবশালী বালি ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে।

রাতের অভিযানে বান্ডিল বান্ডিল নোট

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মহম্মদবাজার থানা এলাকার বাসিন্দা সোহেল শেখ, লবান শেখ ও সামিম শেখের যৌথ বাড়িতে শুক্রবার রাতে আচমকাই হানা দেয় বিশেষ পুলিশ বাহিনী। তল্লাশি শুরু হতেই তদন্তকারীদের চোখ চড়কগাছ হয়ে যায়। বাড়ি ও অফিস থেকে উদ্ধার হয় বান্ডিল বান্ডিল নোট এবং প্রচুর সোনার গয়না। পুলিশি হিসাব অনুযায়ী, নগদ মোট ৪৯ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা এবং প্রায় ৫০২ গ্রাম সোনার গয়না বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এত বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা এবং সোনার উৎসের পক্ষে কোনো বৈধ নথিপত্র দেখাতে না পারায় ব্যবসায়ী শামিম শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃত ব্যবসায়ী এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা বেআইনি বালি ব্যবসা, বালিঘাট পরিচালনা এবং রাস্তা তৈরির ঠিকাদারি সংস্থার সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গেছে।

নেপথ্যের কারণ ও রাজনৈতিক যোগসূত্র

বীরভূম জেলায় নদী থেকে অবৈধভাবে বালি তোলা এবং পাচারের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। স্থানীয় সূত্রে খবর, ধৃত শামিম শেখ এলাকার এক প্রভাবশালী তৃণমূল কংগ্রেস নেতার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় বীরভূমের বালিঘাটগুলিতে দীর্ঘদিন ধরে যে সিন্ডিকেট রাজ চলছিল, এই ব্যবসায়ী তারই অন্যতম প্রধান অংশীদার বলে প্রাথমিক তদন্তে মনে করছে পুলিশ। বালি পাচারের লভ্যাংশের টাকাই এভাবে ওই ব্যবসায়ীর বাড়িতে মজুত করা হয়েছিল বলে অনুমান করা হচ্ছে।

প্রশাসনিক তৎপরতা ও সম্ভাব্য প্রভাব

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দুর্নীতি দমনে কড়া বার্তা দিয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবৈধ বালিঘাট এবং দালাল চক্রের বিরুদ্ধে নজরদারি বৃদ্ধি করায় জেলাজুড়ে বালি পাচারের গ্রাফ কিছুটা নিম্নমুখী। তবে শুক্রবার রাতের এই উদ্ধারকার্য প্রমাণ করছে যে, ভেতরে ভেতরে এখনও এই চক্র সক্রিয় রয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই ঘটনার পর বীরভূমের অন্যান্য বালিঘাট এবং বেআইনি সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত থাকা ব্যক্তিদের ওপর প্রশাসনের চাপ আরও বাড়বে। ধৃত ব্যবসায়ীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই চক্রের মূল পান্ডা এবং এর পেছনে থাকা প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের নাম সামনে আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা আগামী দিনে জেলার রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *