‘বুলডোজার-রাজনীতি’ রুখতে লালবাজারের কড়া দাওয়াই, জেসিবি মিছিলে জারি নিষেধাজ্ঞা

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে বিজয় মিছিলে জেসিবি বা বুলডোজার ব্যবহারের প্রবণতা রুখতে কঠোর অবস্থান নিল কলকাতা পুলিশ। ভোট পরবর্তী পরিস্থিতিতে শহরের আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে লালবাজারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, কোনো ধরনের মিছিলে বুলডোজার বা ভারী জেসিবি মেশিন ব্যবহার করা যাবে না। পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা এই মর্মে কড়া বার্তা দিয়ে জানিয়েছেন, নির্দেশ অমান্য করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কড়া ব্যবস্থা ও ধরপাকড়
ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকে নিউ মার্কেটসহ শহরের বিভিন্ন প্রান্তে বিচ্ছিন্ন অশান্তির খবর পাওয়া গেছে। বিশেষ করে বুলডোজার নিয়ে মিছিল এবং অস্থায়ী দোকান ভাঙচুরের ঘটনায় জনমানসে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কলকাতা পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন, অশান্তি ছড়ানোর অভিযোগে ইতিমধ্যে ৮০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। যারা মিছিলে ব্যবহারের জন্য এই ধরনের ভারী মেশিন ভাড়া দেবেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলায় কঠোর নজরদারি
বিজয় মিছিল আয়োজনের ক্ষেত্রে এখন থেকে পুলিশের আগাম অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। জননিরাপত্তার স্বার্থে কোনোভাবেই বিনা অনুমতিতে জমায়েত বা উসকানিমূলক কার্যক্রম বরদাস্ত করা হবে না বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এছাড়া সাধারণ মানুষকে কোনো ধরনের গুজবে কান না দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে সরাসরি পুলিশের কন্ট্রোল রুমে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
রাজ্যে শান্তি বজায় রাখতে নির্বাচন কমিশনও কড়া নির্দেশিকা জারি করেছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার অপরাধীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি পুলিশ প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সমন্বয় রেখে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন। মূলত বুলডোজার সংস্কৃতির মাধ্যমে ভীতি প্রদর্শন রুখতেই পুলিশ এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করল।
