বেআইনি বালি কারবারে প্রশাসনের বড় ধাক্কা, পূর্ব বর্ধমানে জরিমানা আদায় ৪ কোটি টাকা – এবেলা

বেআইনি বালি কারবারে প্রশাসনের বড় ধাক্কা, পূর্ব বর্ধমানে জরিমানা আদায় ৪ কোটি টাকা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

রাজ্যের শাসনক্ষমতায় আসার পর বেআইনি বালি কারবার রুখতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া বার্তার পরেই তৎপর হয়ে উঠেছে প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রীর সেই নির্দেশকে হাতিয়ার করে পূর্ব বর্ধমান জেলা প্রশাসন ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে এক বড় সাফল্য অর্জন করেছে। গত মাত্র এক সপ্তাহে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে অভিযান চালিয়ে প্রায় ২৮ লক্ষ কিউবিক ফিট (সিএফটি) বেআইনি বালি বাজেয়াপ্ত করেছে ভূমি দফতর। এই বিপুল পরিমাণ বেআইনি বালি মজুতের দায়ে সংশ্লিষ্ট ইজারাদারদের কাছ থেকে জরিমানা বাবদ মোট ৪ কোটি টাকা আদায় করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে ১০ জন ইজারাদারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ বা শোকজ করা হয়েছে।

অভিযানের নেপথ্য কারণ ও প্রশাসনের জিরো টলারেন্স নীতি

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নদী তীরবর্তী অঞ্চলে বালি মজুত করার জন্য ইজারাদারদের ভূমি দফতরের কাছ থেকে নির্দিষ্ট জায়গা ও বালির পরিমাণের অনুমতি নিতে হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ উঠছিল যে, কিছু অসাধু ইজারাদার অনুমোদিত পরিমাণের চেয়ে অনেক বেশি বালি মজুত করছেন এবং নির্দিষ্ট এলাকার বাইরে গিয়ে অননুমোদিত জায়গায় বালির পাহাড় গড়ে তুলছেন। এই সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই জেলাশাসক শ্বেতা আগরওয়ালের নির্দেশে বর্ধমানের সদরঘাট এলাকার দামোদর নদের তীরে ব্যাপক তল্লাশি চালায় ভূমি দফতর। অভিযানে দেখা যায়, একাধিক ইজারাদার সরকারি নিয়মনীতিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বালি মজুত করে রেখেছিলেন। বেআইনি কারবার রুখতে জেলা প্রশাসন স্পষ্ট বার্তা দিয়ে জানিয়েছে যে, এই ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতা নীতি বজায় রাখা হবে। ইতিমধ্যেই প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ইজারাদারদের কড়া সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।

সাধারণ মানুষের স্বস্তি ও সম্ভাব্য সামাজিক প্রভাব

প্রশাসনের এই কঠোর পদক্ষেপের ফলে একদিকে যেমন অবৈধ বালি সিন্ডিকেটের ওপর রাশ টানা সম্ভব হয়েছে, অন্যদিকে সাধারণ মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র মানুষের জন্য বড়সড় স্বস্তির খবর এসেছে। জেলা প্রশাসনের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, সরকারি আবাস যোজনায় যাঁরা ঘর তৈরি করছেন, তাঁরা যাতে সস্তায় বালি পান তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এখন থেকে ওই সমস্ত দুস্থ উপভোক্তারা বালিঘাট থেকে প্রতি ১০০ সিএফটি বালি মাত্র ১২০০ টাকা সরকারি নির্দিষ্ট দরে কিনতে পারবেন, যদিও পরিবহণ খরচ তাঁদের আলাদাভাবে বহন করতে হবে। বর্তমানে খোলা বাজারে পরিবহণ খরচসহ এই পরিমাণ বালির বাণিজ্যিক দর যেখানে ৬৫০০ থেকে ৭৫০০ টাকা, সেখানে প্রশাসনের এই বেঁধে দেওয়া দাম দরিদ্র পরিবারের গৃহনির্মাণের খরচ অনেকটাই কমিয়ে দেবে। তবে আবাসন বা বাণিজ্যিক কাজের ক্ষেত্রে বালি আগের মতোই বাজারদরে কিনতে হবে। প্রশাসনের এই সাঁড়াশি অভিযানের ফলে একদিকে সরকারি রাজস্ব যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে, তেমনই অবৈধ মজুতদারির কারণে বালির কৃত্রিম সংকট ও কালোবাজারি বন্ধ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *