বেইজিংয়ে ট্রাম্পের বিরাট ডিগবাজি! জিনপিংকে ‘মহান নেতা’ বলে চমকে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
আট বছর পর বেইজিংয়ের মাটিতে পা রেখে এক অভাবনীয় কূটনৈতিক ডিগবাজি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এককালে যাকে ‘চিনা ভাইরাস’ বলে আক্রমণ করতেন কিংবা যে দেশের ওপর বাণিজ্যিক শুল্কের পাহাড় চাপিয়েছিলেন, সেই চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে এবার ‘মহান নেতা’ বলে দরাজ সার্টিফিকেট দিলেন তিনি। তিয়ান আন মেন স্কোয়ারে ২১ বার তোপধ্বনির রাজকীয় অভ্যর্থনা আর এলন মাস্ক ও জেনসেন হুয়াংয়ের মতো প্রযুক্তি জগতের মহীরুহদের উপস্থিতিতে এই সফর বিশ্ব রাজনীতিতে এক নতুন মোড় এনে দিয়েছে। বিশেষ করে ইরান যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালীর সংকটে যখন বিশ্ব অর্থনীতি বিপর্যস্ত, তখন দুই প্রবল প্রতিপক্ষের এই ঘনিষ্ঠতা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
হরমুজ সংকট ও রুদ্ধদ্বার বৈঠক
গ্রেট হল অফ দ্য পিপলে দুই নেতার দুই ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার বৈঠকে মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল হরমুজ প্রণালীর রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতি। ইরান যুদ্ধের জেরে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে জাহাজ চলাচল কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। ট্রাম্প ও জিনপিং উভয়ই একমত হয়েছেন যে, বিশ্ব অর্থনীতিকে খাদের কিনারা থেকে বাঁচাতে এই পথ উন্মুক্ত রাখা আবশ্যিক। একইসঙ্গে ইরানের পরমাণু অস্ত্র অর্জনের পথ বন্ধ করার বিষয়েও দুই রাষ্ট্রপ্রধান একসুরে কথা বলেছেন। মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও এবং চিনা বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালীতে কোনো দেশই জাহাজের ওপর অন্যায্য ‘টোল’ বা মাসুল চাপাতে পারবে না।
কূটনৈতিক কৌশলে চিনের প্রভাব
এই সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ইরানের ওপর চিনের প্রভাবকে কাজে লাগানোর মার্কিন প্রচেষ্টা। ইরান মূলত চিনের বড় তেলের খরিদ্দার হওয়ায় তেহরানকে শান্ত করার চাবিকাঠি এখন বেইজিংয়ের হাতে। খবর পাওয়া গেছে, চিনের মধ্যস্থতাতেই ইরান একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে প্রাথমিক সম্মতি দিয়েছে। বিনিময়ে চিন এখন মধ্যপ্রাচ্যের বদলে আমেরিকার কাছ থেকে বেশি করে তেল আমদানিতে আগ্রহ দেখাচ্ছে। তাইওয়ান ইস্যু কিংবা ফেন্টানিল পাচার রোধ নিয়ে দীর্ঘদিনের টানাপড়েন থাকলেও, এই বৈঠকে উন্নত চিপ টেকনোলজি ও বাণিজ্যিক সহযোগিতার বার্তা সেই তিক্ততা কিছুটা প্রশমিত করেছে।
আমেরিকার ইরান নীতি এবং বিশ্ব বাণিজ্যের বর্তমান টালমাটাল অবস্থায় ট্রাম্পের এই বেইজিং সফরকে বিশেষজ্ঞরা একটি ‘কুলিং পিরিয়ড’ বা উত্তেজনা প্রশমনের কাল হিসেবে দেখছেন। বেইজিংয়ের এই নব্য বন্ধুত্ব হরমুজ প্রণালীর জট পুরোপুরি খুলতে পারবে কি না, তা আগামী কয়েক সপ্তাহের রণকৌশলের ওপর নির্ভর করছে।
