বেইমান সুদীপ! খামখেয়ালিপনায় ধ্বংস করেছেন উত্তর কলকাতার সংগঠন, সরব নতুন সভাপতি কুণাল – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
উত্তর কলকাতা সাংগঠনিক জেলার নতুন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েই দলের প্রাক্তন বর্ষীয়ান সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন কুণাল ঘোষ। সদ্য বিজেপিতে যোগ দেওয়া সুদীপের বিরুদ্ধে তাঁর স্পষ্ট অভিযোগ, নিজের খামখেয়ালিপনা এবং একনায়কতন্ত্রের জেরে তিনি উত্তর কলকাতায় তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক ভিত সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছেন। পাশাপাশি, দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তিনি চরম বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন বলেও দাবি করেছেন বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল।
স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাব ও ভাঙনের নেপথ্য কারণ
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে দলের বিপর্যয়ের পর থেকেই সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে জনসমক্ষে খুব একটা দেখা যাচ্ছিল না। কুণাল ঘোষের দাবি, সংগঠন পরিচালনার ক্ষেত্রে সুদীপের দীর্ঘদিনের স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাব ও পক্ষপাতিত্বের কারণেই দলের অন্দরে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। তাঁর লাগাতার অন্যায়ের জেরেই তাপস রায় বা সজল ঘোষের মতো একনিষ্ঠ ও সক্রিয় তৃণমূল নেতারা বাধ্য হয়ে দল ছেড়ে অন্য শিবিরের আশ্রয় নেন। এর ধারাবাহিকতাতেই শনিবার আচমকা সাংসদ শতাব্দী রায়ের গাড়িতে করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব এবং পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক করে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আনুষ্ঠানিক দলবদল সম্পন্ন হয়।
চরম বেইমানি এবং তৃণমূলের অন্দরে সম্ভাব্য প্রভাব
দিল্লিতে গিয়ে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই যোগদানকে ‘চরম বেইমানি’ বলে আখ্যা দিয়েছেন কুণাল ঘোষ। এই হাই-প্রোফাইল দলবদলের ফলে তৃণমূলের অন্দরে বিদ্রোহী শিবিরের তৎপরতা যেমন নতুন করে প্রকাশ্যে চলে এল, তেমনই উত্তর কলকাতার ভগ্নপ্রায় সংগঠনকে ফের ঢেলে সাজানোর এক বিশাল চ্যালেঞ্জ এসে পড়ল কুণাল ঘোষের কাঁধে। শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেও, এই কঠিন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দলের নিচুতলার কর্মীদের ক্ষোভ প্রশমিত করে উত্তর কলকাতায় তৃণমূলের হারানো জমি পুনরুদ্ধার করাই এখন নতুন সভাপতির সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
