বেঙ্গালুরুতে পুলিশের রাতভর ‘অপারেশন মুক্তা’: জালে হাজারো সন্দেহভাজন, উদ্ধার জাল ভারতীয় পরিচয়পত্র! – এবেলা

বেঙ্গালুরুতে পুলিশের রাতভর ‘অপারেশন মুক্তা’: জালে হাজারো সন্দেহভাজন, উদ্ধার জাল ভারতীয় পরিচয়পত্র! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বেঙ্গালুরু: দেশে অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে কড়া পদক্ষেপের অংশ হিসেবে কর্ণাটকের বেঙ্গালুরুতে এক বিশাল অভিযান পরিচালনা করল পুলিশ। শনিবার ভোরে ইলেকট্রনিক সিটি এলাকার ২৯টি ভিন্ন স্থানে ‘অপারেশন মুক্তা’ নামে এই বিশেষ পুলিশি অভিযান চালানো হয়। একযোগে চালানো এই অভিযানে মোট ১,৯০৯ জন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৫ জন বাংলাদেশি নাগরিক বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

অভিযানের বিস্তারিত: শনিবার ভোর ৪টে থেকে ইলেকট্রনিক সিটির ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ (DCP) এম. নারায়ণের নেতৃত্বে তেইশটি বিশেষ দল এই অভিযান শুরু করে। প্রায় ২৯৫ জন পুলিশ সদস্য হোয়াইটফিল্ড, ভার্থুর, কাদুগোড়ি, বালাগেরে রোড, বেলান্দুর, মারাঠাহাল্লি এবং মহাদেবপুরার মতো স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে তল্লাশি চালান। সেখানে বসবাসকারী ব্যক্তিদের পাসপোর্ট, ভিসা এবং অন্যান্য পরিচয়পত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করা হয়।

জাল পরিচয়পত্র উদ্ধার ও বর্তমান অবস্থা: প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, শনাক্ত হওয়া ১৫ জন বাংলাদেশি নাগরিক মূলত বাংলাদেশের খুলনা জেলার বাগেরহাটের বাসিন্দা। তারা অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করে বেঙ্গালুরুতে বসবাস করছিলেন। পুলিশ তাদের কাছ থেকে কিছু জাল ভারতীয় পরিচয়পত্র বাজেয়াপ্ত করেছে, যেখানে তাদের জন্মস্থান হিসেবে পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের উল্লেখ ছিল। বাকি ১,৮৯৪ জন আটক ব্যক্তির নথিপত্র যাচাইয়ের কাজ এখনও চলছে।

পুলিশ ও প্রশাসনের বার্তা: অভিযানের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ ও বাড়িওয়ালাদের প্রতি বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করেছেন ডিসিপি এম. নারায়ণ:

  • মোরাল পুলিশিং বন্ধের নির্দেশ: পুলিশ স্পষ্ট জানিয়েছে, কেউ নিজের হাতে আইন তুলে নিতে পারবেন না। কাউকে সন্দেহ হলে সরাসরি পুলিশকে জানাতে হবে। সন্দেহভাজনদের ভয় দেখিয়ে তোলা আদায়ের চেষ্টা করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
  • বাড়িওয়ালাদের সতর্কতা: সঠিক পরিচয়পত্র ও নথিপত্র পরীক্ষা না করে কাউকে বাড়ি ভাড়া দেওয়া যাবে না। অবৈধভাবে বসবাসকারীদের আশ্রয় দিলে বাড়িওয়ালাদের বিরুদ্ধেও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

কর্ণাটকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিয়ঙ্ক খাড়গে জানিয়েছেন, অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকার কোনো আপস করবে না। গত তিন মাসে প্রায় ১,০০০ জন অবৈধ অনুপ্রবেশকারীকে শনাক্ত করা হয়েছে। এই অভিযান একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং বিএসএফ (BSF) ও এফআরআরও (FRRO)-র সঙ্গে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রেখে কাজ চালানো হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রয়োজনে একটি বিশেষ দল গঠন করা হতে পারে বলেও তিনি জানান।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *